ঈশ্বরের পবিত্র রীতি অনুসারে প্রধান যাজক, আলমা, সমস্ত ভূমিতে তাদের নগর ও গ্রামের জনগণের কাছে যে বাক্যগুলো পৌঁছে দিয়েছিলেন।
অধ্যায় ৫দিয়ে শুরু।
অধ্যায় ৫
পরিত্রাণ লাভের জন্য, মানুষকে অবশ্যই অনুতপ্ত হতে হবে এবং আজ্ঞাগুলো পালন করতে হবে, পূর্ণজম্ম লাভ করতে হবে, খ্রীষ্টের রক্তের মাধ্যমে তাদের বস্ত্র শুচি করতে হবে, নম্র হতে হবে এবং নিজেদের মধ্যে থেকে অহংকার ও হিংসা ত্যাগ করতে হবে, এবং ধার্মিকতার কাজগুলো করতে হবে—উত্তম মেষপালক তাঁর জনগণকে আহ্বান করেন—যারা মন্দ কাজ করে তারা শয়তানের সন্তান—আলমা তাঁর উপদেশাবলীর সত্যতার সাক্ষ্য দেন এবং মানুষকে অনুতাপ করার আদেশ দেন—ধার্মিকদের নাম জীবনপুস্তকে লেখা থাকবে। প্রায় ৮৩ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে
১ এখন এটা ঘটলো যে, আলমা প্রথমে সেরহমলার ভূমিতে, এবং সেখান থেকে সমস্ত ভূমিতে ঈশ্বরের বাক্য জনগণের কাছে প্রচার করতে লাগলেন।
২ এবং এই হলো সেই বাক্যগুলো যা সেরহমলার নগরে প্রতিষ্ঠা হয়েছিলো, তাঁর নিজস্ব নথি অনুসারে যা তিনি মণ্ডলীর জনগণের কাছে বলেছিলেন, বললেন:
৩ আমি, আলমা, আমার পিতা, আলমার দ্বারা ঈশ্বরের মন্ডলীর উপরে একজন প্রধান যাজক হওয়ার জন্য নিযুক্ত হয়েছি, তিনি এই কাজগুলো করার জন্য ঈশ্বরের কাছ থেকে ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব পেয়েছেন, দেখো আমি তোমাদেরকে বলছি যে, তিনি ভূমিতে একটা মন্ডলী প্রতিষ্ঠা করতে শুরু করেছিলেন যা নেফীর সীমান্তে অবস্থিত ছিলো; হ্যাঁ, যে ভূমিকে মরমনের ভূমি বলা হতো; হ্যাঁ, এবং তিনি মরমনের জলে তাঁর ভাইদের বাপ্তিস্ম দিয়েছিলেন।
৪ এবং দেখো, আমি তোমাদের বলছি, ঈশ্বরের করুণা এবং ক্ষমতা দ্বারা, রাজা নোহের জনগণের হাত থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়েছিলো।
৫ এবং দেখো, তারপর, তারা প্রান্তরে লামানীয়দের হাতে দাসত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলো; হ্যাঁ, আমি তোমাদের বলছি, তারা বন্দিদশায় ছিলো, এবং আবার প্রভু তাঁর বাক্যের শক্তিতে তাদের দাসত্ব থেকে উদ্ধার করেছিলেন; এবং আমাদের এই দেশে আনা হয়েছিলো, এবং এখানেও আমরা এই ভূমির সর্বত্র ঈশ্বরের মন্ডলী প্রতিষ্ঠা করতে শুরু করেছিলাম।
৬ এবং এখন দেখো, আমার ভাইয়েরা, আমি তোমাদের বলছি, তোমরা যারা এই মন্ডলীর অন্তর্ভুক্ত, তোমরা কি তোমাদের পূর্বপুরুষদের বন্দীদশার স্মৃতি যথাযথভাবে ধরে রেখেছো? হ্যাঁ, এবং তোমরা কি তাদের প্রতি তাঁর করুণা ও দীর্ঘসহিষ্ণুতার স্মৃতি যথাযথভাবে ধরে রেখেছো? এবং আরো, তিনি তাদের আত্মাকে নরক থেকে উদ্ধার করেছেন তোমরা কি সেই স্মৃতি যথাযথভাবে ধরে রেখেছো?
৭ দেখো, তিনি তাদের হৃদয় পরিবর্তন করেছিলেন; হ্যাঁ, তিনি তাদেরকে গভীর নিদ্রা থেকে জাগিয়ে তুলেছিলেন, এবং তারা ঈশ্বরের জন্য জেগে উঠেছিলো। দেখো, তারা অন্ধকারের মধ্যে ছিলো; তবুও, তাদের আত্মা চিরস্থায়ী বাক্যের আলোতে আলোকিত হয়েছিলো; হ্যাঁ, তারা মৃত্যুর বাঁধনে এবং নরকের শৃঙ্খল দ্বারা পরিবেষ্টিত ছিলো, এবং তাদের জন্য চিরস্থায়ী ধ্বংস অপেক্ষা করছিলো।
৮ এবং এখন আমার ভাইয়েরা, আমি তোমাদের কাছে জানতে চাই, তারা কি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিলো? দেখো, আমি তোমাদেরকে বলছি, না, তারা হয়নি।
৯ এবং আবার জানতে চাই, মৃত্যুর বাঁধন কি ছিন্ন করা হয়েছিলো, এবং নরকের যে শৃঙ্খল তাদের পরিবেষ্টিত করে রেখেছিলো, সেগুলো কি শিথিল হয়েছিলো? আমি তোমাদেরকে বলছি, হ্যাঁ, তারা মুক্ত হয়েছিলো, এবং তাদের আত্মা প্রসারিত হয়েছিলো, এবং তারা মুক্তিলাভের ভালোবাসায় গান গেয়েছিলো। এবং আমি তোমাদেরকে বলছি তারা রক্ষা পেয়েছিলো।
১০ এবং এখন আমি তোমাদের কাছে জানতে চাই তারা কোন শর্তে রক্ষা পেয়েছিলো? হ্যাঁ, কিসের ভিত্তিতে তারা পরিত্রাণের আশা করেছিলো? মৃত্যুর বাঁধন, হ্যাঁ, এবং নরকের শিকল থেকে তাদের মুক্ত হওয়ার কারণ কী?
১১ দেখো, আমি তোমাদের বলতে পারি—আমার পিতা আলমা কি অবীনাদির বাক্যগুলোতে বিশ্বাস করেননি? তিনি কি একজন পবিত্র ভাববাদী ছিলেন না? তিনি কি ঈশ্বরের বাক্যগুলো প্রচার করেননি, এবং আমার পিতা আলমা কি সেগুলো বিশ্বাস করেননি?
১২ এবং তাঁর বিশ্বাস অনুসারে তাঁর অন্তরে একটা বিরাট পরিবর্তন ঘটেছিলো। দেখো আমি তোমাদেরকে বলছি যে, এই সবই সত্য।
১৩ এবং দেখো, তিনি তোমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে বাক্য প্রচার করেছিলেন, এবং তাদের হৃদয়েও একটা বিরাট পরিবর্তন ঘটেছিলো, এবং তারা নিজেদেরকে নম্র করেছিলো এবং সত্য ও জীবন্ত ঈশ্বরের উপর নির্ভর করেছিলো। এবং দেখো, তারা শেষ পর্যন্ত বিশ্বস্ত ছিলো; তাই তারা রক্ষা পেয়েছিলো।
১৪ এবং এখন দেখো, মণ্ডলীতে আমার ভাইয়েরা, আমি তোমাদের কাছে জানতে চাই, তোমরা কি ঈশ্বর থেকে আধ্যাত্মিকভাবে জন্ম নিয়েছো? তোমরা কি তোমাদের চেহারায় তাঁর প্রতিমূর্তি গ্রহণ করেছো? তোমরা কি তোমাদের অন্তরে এই বিরাট পরিবর্তন অনুভব করেছো?
১৫ যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর মুক্তিদানের উপর তোমরা কি বিশ্বাসের চর্চা করো? তোমরা কি বিশ্বাসের চোখে অপেক্ষা করো, এবং এই মরণশীল দেহ অমরত্বে উত্থিত হওয়া, এই অবিশুদ্ধতা বিশুদ্ধতায় উত্থিত হওয়া, মরণশীল দেহে যে কাজগুলো করা হয়েছে সেই অনুসারে বিচারের জন্য ঈশ্বরের সামনে দাঁড়ানোর কথা বিবেচনা করো?
১৬ আমি তোমাদেরকে বলছি, তোমরা কি কল্পনা করতে পারো যে, তোমরা প্রভুর বাণী শুনতে পাবে, যা সেই দিন, তোমাদের কাছে বলা হবে: আমার কাছে আসো তোমরা আশীর্বাদিত, কেননা দেখো, তোমাদের কার্য সকল ভূমণ্ডলে ধার্মিকতার কার্য রুপে পরিগণিত হয়েছে?
১৭ অথবা তোমরা কি নিজেরা কল্পনা করতে পারো যে, সেই দিন তোমরা প্রভুর কাছে মিথ্যা বলতে পারবে, এবং বলবে—প্রভু, আমাদের কার্য সকল ভূমণ্ডলে ধার্মিকতার কার্য রুপে পরিগণিত হয়েছে—এবং তিনি তোমাদের রক্ষা করবেন?
১৮ অথবা অন্যথায়, তোমরা কি কল্পনা করতে পারো যে তোমাদের সমস্ত অপরাধের কথা মনে রেখে অপরাধবোধ ও অনুশোচনায় পূর্ণ তোমাদের আত্মা নিয়ে তোমাদেরকে ঈশ্বরের বিচারসভার সামনে উপস্থিত করা হবে, হ্যাঁ, তোমাদের সমস্ত মন্দতার নিখুঁত স্মৃতি, হ্যাঁ, এমন একটা স্মৃতি যে তোমরা ঈশ্বরের আজ্ঞা অমান্য করেছো?
১৯ আমি তোমাদেরকে বলছি, তোমরা কি সেই দিন বিশুদ্ধ হৃদয়ে ও নির্মল হাতে ঈশ্বরের দিকে তাকাতে পারবে? আমি তোমাদেরকে বলছি, তোমাদের চেহারায় ঈশ্বরের প্রতিমূর্তি খোদাই করে, তোমরা কি তাকাতে পারবে?
২০ আমি তোমাদেরকে বলছি, তোমরা শয়তানের বশীভূত হবার জন্য যখন আত্মসমর্পণ করেছো, তখন কি তোমরা রক্ষা পাবার কথা চিন্তা করতে পারো?
২১ আমি তোমাদেরকে বলছি, তোমরা সেই দিন জানবে যে তোমরা রক্ষা পাবে না; কারণ কোন মানুষ রক্ষা পাবে না যদি তার বস্ত্র ধুয়ে শুভ্র না হয়; হ্যাঁ, তার বস্ত্র অবশ্যই বিশুদ্ধ হতে হবে যতক্ষণ না সেগুলো সমস্ত দাগ থেকে শুচি হয়, তাঁর রক্তের মাধ্যমে যাঁর বিষয়ে আমাদের পূর্বপুরুষরা বলেছেন, যিনি তাঁর লোকদের তাদের পাপ থেকে মুক্ত করতে আসবেন।
২২ এবং এখন, আমার ভাইয়েরা, আমি তোমাদের কাছে জানতে চাই, তোমাদের বস্ত্রে রক্তের এবং সমস্ত ধরনের নোংরা দাগ নিয়ে, তোমাদের মধ্যে যদি কেউ ঈশ্বরের কাঁঠগড়ার সামনে দাঁড়াও কেমন অনুভব করবে? দেখো, এই বিষয়গুলো তোমাদের বিরুদ্ধে কি সাক্ষ্য দেবে?
২৩ তারা কি সাক্ষ্য দেবে না যে, তোমরা হত্যাকারী, হ্যাঁ, এবং একইসঙ্গে তোমরা সব ধরনের মন্দ কাজের জন্য দোষী?
২৪ দেখো, আমার ভাইয়েরা, তোমরা কি মনে করো যে, এই প্রকার একজন ব্যক্তির ঈশ্বরের রাজ্যে, আব্রাহম, ইসহাক, যাকোবের সঙ্গে এবং সেই সমস্ত পবিত্র ভাববাদী, যাদের বস্ত্র শুচি এবং দাগহীন, বিশুদ্ধ ও শুভ্র, তাঁদের সঙ্গে বসার জায়গা থাকতে পারে?
২৫ আমি তোমাদেরকে বলছি, না; যদি না তোমরা আমাদের সৃষ্টিকর্তাকে প্রথম থেকেই মিথ্যাবাদী বানাও, অথবা মনে করো যে, তিনি প্রথম থেকেই মিথ্যাবাদী, তাহলে তোমরা মনে করতে পারো না যে, স্বর্গরাজ্যে তার স্থান থাকতে পারে; কিন্তু তাদের বিতাড়িত করা হবে, কারণ তারা শয়তানের রাজ্যের সন্তান।
২৬ এবং এখন দেখো, আমার ভাইয়েরা, আমি তোমাদেরকে বলছি, তোমরা যদি হৃদয়ের পরিবর্তন অনুভব করে থাকো, এবং যদি মুক্তিদায়ক ভালবাসার গান গাইতে চাও, তবে আমি তোমাদের কাছে জানতে চাবো, এখন কি তোমরা তা অনুভব করতে পারো?
২৭ তোমরা কি ঈশ্বরের সামনে নিজেদেরকে নির্দোষ রেখে, চলাফেরা করেছো? যদি এই সময়েই তোমাদেরকে মৃত্যুর জন্য ডাকা হয়, তোমরা কি নিজেদের বলতে পারবে যে, তোমরা যথেষ্ট নম্র ছিলে? খ্রীষ্টের রক্তের দ্বারা তোমাদের বস্ত্র শুচি ও শুভ্র করা হয়েছে, যিনি তাঁর জনগণকে তাদের পাপ থেকে মুক্ত করতে আসবেন?
২৮ দেখো, তোমরা কি অহংকারকে ত্যাগ করেছো? আমি তোমাদের বলছি, যদি তোমরা না করে থাকো তাহলে তোমরা ঈশ্বরের সাথে মিলিত হওয়ার জন্য প্রস্তুত না। দেখো তোমাদের অবশ্যই দ্রুত প্রস্তুত হতে হবে; কারণ স্বর্গ রাজ্য খুবই সন্নিকট, এবং সেই ধরণের ব্যক্তি অনন্ত জীবন পাবে না।
২৯ দেখো, আমি বলছি, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ কি আছে যে হিংসা ত্যাগ করোনি? আমি তোমাদেরকে বলছি যে, সেই ব্যক্তি প্রস্তুত নয়; এবং আমি চাই যে সে দ্রুত প্রস্তুত হোক, কেননা সময় সন্নিকটে, এবং সে জানে না কখন সময় আসবে; কারণ সেই ব্যক্তিকে নির্দোষ হিসেবে পাওয়া যাবে না।
৩০ এবং আমি আবার তোমাদেরকে বলছি, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ কি আছে, যে তার ভাইকে উপহাস করে, অথবা তার উপর নির্যাতন করে?
৩১ ধিক সেই ব্যক্তিকে, কারণ সে প্রস্তুত নয়, এবং সময় এতই সন্নিকটে যে, তাকে অনুতাপ করতে হবে অন্যথায় সে রক্ষা পাবে না!
৩২ হ্যাঁ, এমনকি ধিক তোমদের সবাইকে যারা অন্যায়কারী; অনুতাপ করো, অনুতাপ করো, কারণ প্রভু ঈশ্বর এই কথা বলেছেন!
৩৩ দেখো, তিনি সকল মানুষকে আহ্বান করেছেন, কেননা তাদের প্রতি করুণার বাহু প্রসারিত হয়েছে, এবং তিনি বললেন: অনুতাপ করো, এবং আমি তোমাদেরকে গ্রহণ করবো।
৩৪ হ্যাঁ, তিনি বললেন: আমার কাছে আসো এবং তোমরা জীবনবৃক্ষের ফল ভোগ করবে; হ্যাঁ, তোমরা বিনামূল্যে জীবনরুটি ভোজন ও জীবনজল পান করবে;
৩৫ হ্যাঁ, আমার কাছে আসো এবং ধার্মিকতার কাজ করো, এবং তা হলে তোমাদের কেটে ফেলা হবে না এবং আগুনে নিক্ষেপ করা হবে না—
৩৬ কারণ দেখো, সময় সন্নিকটে যে, যে কেউ ভালো ফল উৎপন্ন করবে না, অথবা যে কেউ ধার্মিকতার কাজ করবে না, সেই মানুষদের দুঃখ এবং শোক করার কারণ থাকবে।
৩৭ হে অন্যায়কারীরা; তোমরা যারা জগতের নিরর্থক বিষয়ে অহংকারী হয়ে উঠেছো, তোমরা যারা ধার্মিকতার পথ জানো বলে দাবি করছো, তবুও তোমরা বিপথে গিয়েছো, মেষপালক বিহীন মেষপালের মতো, তথাপি একজন মেষপালক তোমাদের ডাকছেন এবং এখনও তোমাদের আহ্বান করে চলেছেন, কিন্তু তোমরা তাঁর কন্ঠস্বর শুনবে না!
৩৮ দেখো, আমি তোমাদেরকে বলছি, একজন উত্তম মেষপালক তোমাদেরকে ডাকছেন; হ্যাঁ, এবং তিনি তাঁর নিজের নামে তোমাদের ডাকছেন, যা হলো খ্রীষ্টের নাম; এবং তোমরা যদি উত্তম মেষপালকের কন্ঠস্বর না শোনো, যে নামে তোমাদের আহ্বান করা হয়, তা হলে দেখো, তোমরা উত্তম মেষপালকের মেষ নও।
৩৯ এবং এখন তোমরা যদি উত্তম মেষপালকের মেষ না হও, তা হলে তোমরা কোন দলের? দেখো, আমি তোমাদেরকে বলছি যে, শয়তান তোমাদের মেষপালক এবং তোমরা তার দলভুক্ত; এবং এখন, কে এটা অস্বীকার করতে পারে? দেখো, আমি তোমাদেরকে বলছি, যে কেউ এটা অস্বীকার করে সে মিথ্যাবাদী এবং শয়তানের সন্তান।
৪০ কারণ আমি তোমাদের বলছি যে, যা কিছু ভালো তা ঈশ্বরের কাছ থেকে আসে, এবং যা কিছু মন্দ তা শয়তান থেকে আসে।
৪১ অতএব, যদি কেউ ভালো কাজ করে তবে সে উত্তম মেষপালকের কথা শোনে, এবং সে তাঁকে অনুসরণ করে; কিন্তু যে কেউ মন্দ কাজ করে, সে শয়তানের সন্তান হয়, কারণ সে তার কথা শোনে এবং তাকে অনুসরণ করে।
৪২ এবং যে কেউ এরূপ করবে সে তার কাছ থেকে তার পুরস্কার অবশ্যই পাবে; অতএব, তার পুরস্কারের জন্য সে মৃত্যু বরণ করবে, ধার্মিকতার সাথে সম্পর্কিত বিষয়গুলো, সমস্ত ভাল কাজ করতে অক্ষম হবে।
৪৩ এবং এখন, আমার ভাইয়েরা, আমি চাই যে তোমরা আমার কথা শোনো, কারণ আমি আমার আত্মার শক্তিতে কথা বলছি; কারণ দেখো, আমি তোমাদের স্পষ্টভাবে বলেছি যে, তোমরা ভুল করতে পারো না, অথবা ঈশ্বরের আজ্ঞা অনুসারে কথা বলছি।
৪৪ কারণ ঈশ্বরের পবিত্র রীতি অনুসারে, যা খ্রীষ্ট যীশুতে রয়েছে, আমাকে এই প্রকারে কথা বলতে আহ্বান করা হয়েছে; হ্যাঁ, আমাদের পূর্বপুরুষরা ভবিষ্যতের বিষয়ে যা বলেছিলেন আমাকে আদেশ দেওয়া হয়েছে, আমি যেনো সেই বিষয়ে এই জনগণের মধ্যে দাঁড়িয়ে সাক্ষ্য দেই।
৪৫ এবং এখানেই শেষ নয়। তোমরা কি মনে করো না যে, আমি নিজেও এসব বিষয়ে জানি? দেখো, আমি তোমাদের কাছে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আমি জানি যে আমি যা বলেছি এই সব সত্য। তোমরা কি মনে করো যে আমি এসব কিছুর সত্যতা সম্পর্কে কিভাবে জানি?
৪৬ দেখো, আমি তোমাদেরকে বলছি এগুলো ঈশ্বরের পবিত্র আত্মা দ্বারা আমাকে জানানো হয়েছে। দেখো, আমি অনেক দিন উপবাস করেছি এবং প্রার্থনা করেছি যাতে আমি নিজের জন্য এই বিষয়গুলো জানতে পারি। এবং এখন আমি নিজে জানি যে সেগুলো সত্য; কারণ প্রভু ঈশ্বর তাঁর পবিত্র আত্মার দ্বারা সেগুলোকে আমার কাছে প্রকাশ করেছেন; এবং এটাই হলো সেই দৈববানীর আধ্যাত্মিক উপহার যা আমার মধ্যে আছে।
৪৭ এবং আরো, আমি তোমাদের বলছি যে এটা এভাবে আমার কাছে প্রকাশ করা হয়েছে যে, আমাদের পূর্বপুরুষেরা যে বাক্যগুলো বলেছেন, এমনকি ভবিষ্যদ্বাণীর আধ্যাত্মিক উপহার অনুসারে, যা ঈশ্বরের আত্মার প্রকাশের মাধ্যমেও, যা আমার মধ্যে রয়েছে সেগুলো সত্য।
৪৮ আমি তোমাদেরকে বলছি যে, আমি নিজের সম্পর্কে জানি যে, আসন্ন বিষয় সম্পর্কে আমি তোমাদেরকে যা কিছু বলবো, সেগুলো সত্য; এবং আমি তোমাদেরকে বলছি, আমি জানি যে যীশু খ্রীষ্ট আসবেন, হ্যাঁ, পুত্র, পিতার একজাত, অনুগ্রহ, করুণা ও সত্যে পূর্ণ। এবং দেখো, তিনিই জগতের পাপভার তুলে নিতে আসছেন, হ্যাঁ, যারা তাঁর নামে অটলভাবে বিশ্বাস করে তাদের প্রত্যেকের পাপ।
৪৯ এবং এখন আমি তোমাদেরকে বলছি যে, এই রীতি অনুসারে আমাকে আহ্বান করা হয়েছে, হ্যাঁ, আমার প্রিয় ভাইদের কাছে প্রচার করার জন্য, হ্যাঁ, এবং এই ভূমিতে বসবাসকারী প্রত্যেকের কাছে; হ্যাঁ, বৃদ্ধ ও যুবক উভয়ের কাছেই, বন্দি ও মুক্ত সকলের কাছে প্রচার করার জন্য; হ্যাঁ, আমি তোমাদেরকে বলছি বৃদ্ধ, মধ্যবয়সী, উঠতি প্রজন্ম; হ্যাঁ, তাদের কাছে মিনতি করার জন্য যেনো তারা অনুতাপ করে এবং পূর্ণজন্ম নেয়।
৫০ হ্যাঁ, আত্মা এইভাবে বলেছেন: তোমরা পৃথিবীর শেষ প্রান্ত পর্যন্ত, অনুতাপ করো, কারণ স্বর্গরাজ্য খুবই সন্নিকটে; হ্যাঁ, ঈশ্বরের পুত্র তাঁর গৌরবে, তাঁর শক্তিতে, মহিমায়, ক্ষমতা এবং আধিপত্যে আসেন। হ্যাঁ, আমার প্রিয় ভাইয়েরা, আমি তোমাদের বলছি যে, আত্মা বলছেন: সমস্ত পৃথিবীর রাজার মহিমা দেখো; এবং স্বর্গের রাজা খুব শীঘ্র সমস্ত মনুষ্যসন্তানদের মধ্যে একটা উদাহরণ হয়ে উঠবেন।
৫১ এবং আত্মা আমাকে আরো বললেন, হ্যাঁ, উচ্চ কণ্ঠে আমাকে চিৎকার করে বলেছেন, বললেন: যাও এবং এই জনগণের কাছে বলো—অনুতাপ করো, কারণ অনুতাপ করা ছাড়া তোমরা অন্য কোনো উপায়ে স্বর্গরাজ্যের অধিকারী হতে পারবে না।
৫২ এবং আমি আবার তোমাদেরকে বলছি, আত্মা বলেছেন: দেখো, গাছের শিকড়ে কুঠার রাখা হয়েছে; অতএব যে গাছ ভালো ফল দেবে না সেটা কেটে ফেলা হবে এবং আগুনে নিক্ষেপ করা হবে, হ্যাঁ, এমন এক আগুন যা নির্বাপিত হয় না, এমনকি একটা অনির্বাপিত আগুন। দেখো, এবং মনে রেখো, পবিত্রতম এটা বলেছেন।
৫৩ এবং এখন আমার প্রিয় ভাইয়েরা, আমি তোমাদের বলছি, তোমরা কি এই কথাগুলো অস্বীকার করতে পারো; হ্যাঁ, তোমরা কি এই সমস্ত জিনিস ত্যাগ করতে পারো, এবং পবিত্রতমকে তোমাদের পায়ের তলায় পদদলিত করতে পারো; হ্যাঁ, তোমরা কি তোমাদের হৃদয়ের অহংকারে অহংকারী হয়ে উঠেছো; হ্যাঁ, তোমরা কি এখনও দামী বস্ত্র পরিধান করে এবং জগতের নিরর্থক জিনিসে, তোমাদের ধনসম্পদের উপর তোমাদের হৃদয় স্থির করে রাখবে?
৫৪ হ্যাঁ, তোমরা কি মনে করতে থাকবে যে, তোমরা একে অপরের চেয়ে শ্রেষ্ঠ; হ্যাঁ, তোমরা কি তোমাদের ভাইদের উপরে নির্যাতন চালিয়ে যাবে, যারা নিজেদেরকে নম্র করে এবং ঈশ্বরের পবিত্র রীতি অনুসরণ করে, যার মাধ্যমে তাদের এই মন্ডলীতে আনা হয়েছে, পবিত্র আত্মার দ্বারা পবিত্র করা হয়েছে, এবং তারা সেই কাজগুলো করছে যা অনুতাপের জন্য উপযুক্ত—
৫৫ হ্যাঁ, তোমরা কি গরীব এবং অভাবগ্রস্তদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে থাকবে, এবং তাদের সাথে তোমাদের বস্তুসকল সহভাগিতা করা থেকে বিরত থাকবে?
৫৬ এবং পরিশেষে, তোমরা যারা তোমাদের মন্দতায় অবিচল থাকবে, আমি তোমাদের বলছি যে, এরাই তারা যাদেরকে কেটে ফেলা হবে এবং আগুনে নিক্ষেপ করা হবে যদি না তারা দ্রুত অনুতাপ করে।
৫৭ এবং এখন আমি তোমাদের বলছি, তোমরা যারা উত্তম মেষপালকের কন্ঠস্বর অনুসরণ করতে ইচ্ছুক, মন্দদের মধ্যে থেকে বের হয়ে আসো, এবং আলাদা হও, এবং তাদের অপবিত্র জিনিসগুলো স্পর্শ করো না; আর দেখো, তাদের নাম মুছে ফেলা হবে, যেনো ধার্মিকদের নামের মধ্যে দুষ্টদের নাম গণনা না করা হয়, যাতে ঈশ্বরের বাক্য পরিপূর্ণ হয়, যা বলেছেন: দুষ্টদের নাম আমার জনগণের নামের সাথে মিশ্রিত হবে না;
৫৮ কারণ ধার্মিকদের নাম জীবন পুস্তকে লেখা থাকবে এবং আমি আমার ডান দিকে তাদের উত্তরাধিকার দেবো। এবং এখন, আমার ভাইয়েরা, এর বিরুদ্ধে তোমাদের কি বলার আছে? আমি তোমাদের বলছি, যদি তোমরা এর বিরুদ্ধে কথা বলো, তাতে কিছুই হবে না, কারণ ঈশ্বরের বাক্য আবশ্যই পরিপূর্ণ হবে।
৫৯ কারণ তোমাদের মধ্যে এমন কোন মেষপালক আছে যার অনেক মেষ থাকা সত্ত্বেও সেগুলোর দেখাশোনা করে না, যেনো নেকড়ে প্রবেশ করে তার পালকে খেয়ে না ফেলে? এবং দেখো, যদি কোনো নেকড়ে তার পালে প্রবেশ করে সে কি তাকে তাড়িয়ে দেয় না? হ্যাঁ, এবং শেষ পর্যন্ত, যদি সে পারে, সে তাকে ধ্বংস করবে।
৬০ এবং এখন আমি তোমাদের বলছি যে উত্তম মেষপালক তোমাদের আহ্বান করছেন; এবং যদি তোমরা তাঁর কথা শোনো তবে তিনি তোমাদের তাঁর পালে নিয়ে যাবেন, এবং তোমরা তাঁর মেষ হবে; এবং তিনি তোমাদেরকে আদেশ দেন, তোমরা যেনো তোমাদের মধ্যে ক্ষুধার্ত নেকড়েকে প্রবেশ করতে না দাও, যেনো তোমরা ধ্বংস না হও।
৬১ আর এখন আমি, আলমা, যিনি আমাকে আদেশ দিয়েছেন তাঁর ভাষায় তোমাদেরকে আদেশ দিচ্ছি, যেনো আমি তোমাদের যা বলেছি তোমরা সেই বাক্যসকল পালন করো।
৬২ আমি তোমাদের আদেশের মতো করে বলছি যারা মন্ডলীভুক্ত; এবং যারা মন্ডলীভুক্ত নয় আমি তাদেরকে আমন্ত্রণের সাথে বলছি: আসো এবং অনুতাপের সাথে বাপ্তিস্ম গ্রহন করো, যেনো তোমরাও জীবনবৃক্ষ ফলের অংশীদার হও।