ধর্মশাস্ত্র
আলমা ৩০


অধ্যায় ৩০

খ্রীষ্টবিরোধী কোরিহোর, খ্রীষ্ট, প্রায়শ্চিত্ত এবং ভবিষ্যদ্বাণীর আধ্যাত্মিক উপহারকে উপহাস করে—সে শিক্ষা দেয় যে কোনো ঈশ্বর নেই, মানুষের পতন নেই, পাপের জন্য কোনো শাস্তি নেই, এবং কোনো খ্রীষ্ট নেই—আলমা সাক্ষ্য দেন যে খ্রীষ্ট আসবেন এবং সেই সমস্ত কিছু প্রমাণ করে যে একজন ঈশ্বর আছেন—কোরিহোর একটা চিহ্ন দাবি করে এবং বোবা হয়ে যায়—শয়তান কোরিহোরের কাছে একজন স্বর্গদূত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলো এবং তাকে কী বলতে হবে তা শিখিয়েছিলো—কোরিহোর পদদলিত হয়ে মারা যায়। প্রায় ৭৬–৭৪ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে

দেখো, এখন এটা ঘটলো যে যেরশনের ভূমিতে অম্মোনের লোকেরা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরে, হ্যাঁ, এবং লামানীয়দের ভূমি থেকে বিতাড়িত করার পরেও, তাদের মৃতদেহগুলো ভূমির লোকেরা সমাধিস্থ করেছিলো—

এখন তাদের সংখ্যার বিশালতার কারণে তাদের মৃতদেহগুলোর সংখ্যা গণনা করা হয়নি; নেফীয়দের মৃতদেহগুলোও গণনা করা হয়নি—কিন্তু এটা ঘটলো তারা তাদের মৃতদেহগুলো সমাধিস্থ করার পরে, এবং উপবাস, এবং শোক, এবং প্রার্থনার দিনগুলোর পরে, (এবং এটা ছিলো নেফীর লোকদের উপর বিচারকদের রাজত্বেকালের ষোলতম বছরে) সেখানে সমস্ত ভূমিতে অবিরাম শান্তি বিরাজ করতে লাগলো।

হ্যাঁ, এবং জনগণ প্রভুর আজ্ঞা পালন করার জন্য কঠোর চেষ্টা করেছিলো; এবং তারা মোশির আইন অনুসারে, ঈশ্বরের ধর্মানুষ্ঠানগুলো পালনে কঠোর ছিলো; কারণ তাদের শিক্ষা দেওয়া হয়েছিলো মোশির আইন পালন করতে যতক্ষণ না তা পূর্ণ হয়।

এবং এইভাবে নেফীর লোকেদের উপর বিচারকদের রাজত্বকালের ষোলোতম বছরে জনগণের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব ছিলো না।

এবং এটা ঘটলো যে বিচারকদের রাজত্বকালের সতেরোতম বছরের শুরুতে, সেখানে অবিরাম শান্তি ছিলো।

কিন্তু এটা ঘটলো সতেরোতম বছরের শেষের দিকে, একজন লোক সেরহমলার ভূমিতে এলো, এবং সে খ্রীষ্ট বিরোধী ছিলো, কারণ সে খ্রীষ্টের আগমনের বিষয়ে, ভাববাদীদের দ্বারা বলা ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর বিরুদ্ধে জনগণের কাছে প্রচার করতে শুরু করেছিলো।

এখন সেখানে মানুষের বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কোনো আইন ছিলো না; কারণ এটা ঈশ্বরের আদেশের সম্পূর্ণ বিপরীত ছিলো যে, সেখানে এমন একটা আইন থাকা উচিত যা মানুষদেরকে অসম অবস্থানে নিয়ে যাবে।

কারণ ধর্মশাস্ত্র এই কথা বলে: আজই তোমরা স্থির করে নাও, কার সেবা তোমরা করবে।

এখন যদি কোনো ব্যক্তি ঈশ্বরের সেবা করতে চায়, তবে এটা তার সৌভাগ্য ছিলো; অথবা আরো সঠিকভাবে বললে, যদি সে ঈশ্বরে বিশ্বাস করতো তবে তাঁর সেবা করা তার সৌভাগ্য ছিলো; কিন্তু যদি সে তাঁকে বিশ্বাস না করতো তাহলে তাকে শাস্তি দেওয়ার কোনো আইন ছিলো না।

১০ কিন্তু যদি সে হত্যা করে তবে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতো; এবং যদি সে লুঠ করে তাকেও শাস্তি দেওয়া হতো; এবং সে যদি চুরি করে তাকেও শাস্তি দেওয়া হতো; এবং সে যদি ব্যভিচার করে তাকেও শাস্তি দেওয়া হতো; হ্যাঁ, এই সমস্ত দুষ্টতার জন্য তাদের শাস্তি দেওয়া হয়েছিলো।

১১ কারণ সেখানে একটা আইন ছিলো যে, মানুষকে তার অপরাধ অনুযায়ী বিচার করা হবে। তথাপি, সেখানে মানুষের বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কোনো আইন ছিলো না; তাই, একজন ব্যক্তিকে শুধুমাত্র সেই অপরাধগুলোর জন্য শাস্তি দেওয়া হতো যা সে করতো; তাই সব মানুষের সমান অবস্থান ছিলো।

১২ এবং এই খ্রীষ্টবিরোধী, যার নাম ছিলো কোরিহোর, (এবং তার উপর আইনের কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিলো না) জনগণের কাছে প্রচার করতে শুরু করেছিলো যে, খ্রীষ্ট বলতে কেউ নেই। এবং এই প্রকারে সে প্রচার করেছিলো, বলেছিলো:

১৩ ধিক তোমাদের যারা একটা মূর্খ এবং একটা বৃথা আশায় আবদ্ধ হয়েছো, কেনো তোমরা এইরূপ মূর্খতার দ্বারা তোমাদের আবদ্ধ করছো? কেনো তোমরা একজন খ্রীষ্টের অপেক্ষা করছো? কারণ কি ঘটতে চলেছে তা কেউই জানতে পারে না।

১৪ দেখো, এই বিষয়গুলো যেগুলোকে তোমরা ভবিষ্যদ্বাণী বলো, যেগুলোকে তোমরা বলছো পবিত্র ভাববাদীদের দ্বারা হস্তান্তরিত, দেখো, সেগুলো তোমাদের পূর্বপুরুষদের মূর্খ রীতিনীতি।

১৫ তোমরা সেগুলোর সত্যতা সম্পর্কে কিভাবে জানো? দেখো, তোমরা এমন বিষয়গুলো জানতে পারো না যেগুলো তোমরা দেখোনি; অতএব তোমরা জানো না যে, একজন খ্রীষ্ট থাকবেন।

১৬ তোমরা অপেক্ষায় আছো এবং বলো যে, তোমরা তোমাদের পাপের একটা ক্ষমা দেখতে পাচ্ছো। কিন্তু দেখো, এটা একটা উন্মত্ত মনের প্রভাব; এবং তোমাদের মনের এই বিকৃতি আসে তোমাদের পূর্বপুরুষদের রীতিনীতির কারণে, যা তোমাদেরকে এমন বিষয়গুলো বিশ্বাসের দিকে ধাবিত করে, যা আসলে তা নয়।

১৭ এইসব আরও অনেক বিষয় সে তাদের বলেছিলো, তাদের বলেছিলো যে, মানুষের পাপের জন্য কোনো প্রায়শ্চিত্ত করা যায় না, কিন্তু প্রত্যেক মানুষ এই জীবনে ভাল বা খারাপ ভাগ্যের অভিজ্ঞতা লাভ করেছে সেই মানুষের আচরণের নিয়ন্ত্রণ অনুসারে; অতএব প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিজের প্রতিভা অনুসারে উন্নতি লাভ করেছে, এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিজের শক্তি অনুসারে জয়লাভ করেছে; এবং একজন ব্যক্তি যা কিছু করেছে তা কোনো অপরাধ নয়।

১৮ এবং এইভাবে সে তাদের কাছে প্রচার করেছিলো, অনেকের হৃদয়কে ভুল পথে পরিচালিত করেছিলো, তাদের মন্দতায় অহংকারী করে তুলেছিলো, হ্যাঁ, বহু নারীদের, এবং পুরুষদেরকেও ব্যভিচার করতে পরিচালিত করেছিলো—তাদেরকে এই বলে যে, যখন একজন ব্যক্তি মারা যায়, তখনই তার শেষ।

১৯ এখন এই লোকটা যেরশনের ভূমিতেও গেলো, অম্মোনের লোকদের মধ্যে এই বিষয়গুলো প্রচার করতে, যারা একসময় লামানীয়দের লোক ছিলো।

২০ কিন্তু দেখো তারা অনেক নেফীয়দের থেকে জ্ঞানী ছিলো; কারণ তারা তাকে ধরলো, এবং বেঁধে ফেললো, এবং সেই অম্মোনের সামনে নিয়ে গেলো, যিনি সেই জনগণের উপরে একজন প্রধান যাজক ছিলেন।

২১ এবং এটা ঘটলো যে সে আদেশ করলো যেনো তাকে ভূমির বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এবং সে গিদিয়োনের ভূমিতে আসলো, এবং তাদের কাছেও প্রচার করতে শুরু করেছিলো; এবং, এখানে সে খুব বেশি সাফল্য পায়নি, কারণ তাকে ধরে এবং বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো প্রধান যাজকের সামনে, এবং ভূমির প্রধান বিচারকের সামনেও নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো।

২২ এবং এটা ঘটলো যে প্রধান বিচারক তাকে বলেছিলো: কেনো তুমি প্রভুর পথসকল বিকৃত করার চেষ্টা করছো? তাদের আনন্দ-উৎসব বাধা সৃষ্টি করতে, কেনো তুমি এই লোকদের শিক্ষা দিচ্ছো যে, কোনো খ্রীষ্ট থাকবে না? কেনো তুমি পবিত্র ভাববাদীদের সমস্ত ভবিষ্যদ্বাণীর বিরুদ্ধে কথা বলছো?

২৩ এখন এই প্রধান যাজকের নাম ছিলো গিদ্দোনাহ। এবং কোরিহোর তাঁকে বললো: কারণ আমি আপনার পূর্বপুরুষদের মূর্খ রীতি শিক্ষা দিই না, এবং কারণ আমি এই লোকদেরকে মূর্খ ধর্মানুষ্ঠান ও কর্মকাণ্ডের অধীনে নিজেদেরকে আবদ্ধ করতে শিখাই না, যা প্রাচীন যাজকেরা অন্যায়ভাবে তাদের উপর ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব অর্জন করার জন্য, তাদের অজ্ঞতার মধ্যে রাখার জন্য স্থাপন করেছিলেন যাতে তারা অহংকারী না হয়ে ওঠে, কিন্তু আপনার কথা অনুযায়ী নম্র হয়।

২৪ আপনারা বলছেন যে, এই জাতি একটা স্বাধীন জাতি। দেখুন, আমি বলি তারা দাসত্বের মধ্যে রয়েছে। আপনারা বলছেন যে, এই প্রাচীন ভবিষ্যদ্বাণীগুলো সত্য। দেখুন, আমি বলি যে, আপনারা জানেন না যে সেগুলো সত্য।

২৫ আপনারা বলছেন যে, এই জাতি একটা দোষী এবং পতিত জাতি, তাদের পিতা-মাতার অপরাধের কারণে। দেখুন, আমি বলি যে, একটা সন্তান তার পিতা-মাতার কারণে দোষী না।

২৬ এবং আপনারা এও বলেন যে, খ্রীষ্ট আসবেন। কিন্তু দেখুন, আমি বলি যে, আপনারা জানেন না যে খ্রীষ্ট বলে একজন আসবেন কিনা। এবং আপনারা এও বলেন যে, জগতের পাপের জন্য তাঁকে হত্যা করা হবে—

২৭ এবং এভাবে আপনারা নিজেদের ইচ্ছানুযায়ী, আপনারা এই জাতিকে ভ্রান্ত পথে পরিচালিত করছেন আপনাদের পূর্বপুরুষদের মূর্খ রীতিনীতি অনুসরণ করার জন্য; এবং আপনারা এমনকি তাদেরকে দাসত্বের ন্যায় অবনমিত রাখেন, যেনো আপনারা তাদের হাতের পরিশ্রম দ্বারা নিজেরা বিলাসিতা করতে পারেন, যাতে তারা সাহসের সাথে তাকাতে সাহস না করে, এবং তারা যেনো তাদের অধিকার ও বিশেষাধিকার উপভোগ করতে সাহস না পায়।

২৮ হ্যাঁ, তারা তাদের নিজস্ব জিনিস ব্যবহার করতে সাহস করে না, পাছে তারা তাদের যাজকদের অসন্তুষ্ট করে, যারা তাদের ইচ্ছা অনুসারে তাদের যোঁয়ালি দেয়, এবং তাদের রীতি এবং তাদের স্বপ্ন এবং তাদের আকস্মিক ধারণা এবং তাদের দর্শন এবং তাদের ভান করা রহস্যের দ্বারা তাদের বিশ্বাস করতে শেখায় যে, এটা তারা করবে, যদি তারা তাদের কথা অনুসারে না করে, তবে কোনো অজানা সত্তাকে অপমান করা হয়, যাকে তারা ঈশ্বর বলে—এমন এক সত্তা যাকে কখনও দেখা যায়নি বা জানা যায়নি, যিনি কখনও ছিলেন না এবং কখনও আসবেনও না।

২৯ এখন প্রধান যাজক ও প্রধান বিচারক যখন তার হৃদয়ের কঠোরতা দেখলেন, হ্যাঁ, যখন তাঁরা দেখলেন যে, সে এমনকি ঈশ্বরের বিরুদ্ধে নিন্দা করছে, তখন তাঁরা তার কথার কোনো উত্তর দিলেন না; কিন্তু তাঁরা তাকে বেঁধে রাখতে আদেশ দিয়েছিলেন; এবং তাঁরা তাকে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দিলেন, এবং তাকে সেরহমলার ভূমিতে পাঠিয়ে দিলেন, যেনো তাকে আলমা, এবং প্রধান বিচারকের সামনে হাজির করা হয় যিনি ছিলেন সমস্ত ভূমির দেশাধ্যক্ষ।

৩০ এবং এটা ঘটলো যে যখন তাকে আলমা এবং প্রধান বিচারকের সামনে হাজির করা হয়েছিলো, তখন সে গিদিয়োনের ভূমিতে যেমন করেছিলো তেমনই করেছিলো; হ্যাঁ, সে ধর্মনিন্দা করেছিলো।

৩১ এবং সে আলমার সামনে প্রচণ্ড গর্বের সাথে কথা বলছিলো, এবং যাজকদের ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নিন্দা করেছিলো, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলো যে তাঁরা জনগণের পরিশ্রম দ্বারা নিজেরা বিলাসিতা করার জন্য তাদের পিতৃপুরুষদের মূর্খ রীতিনীতি অনুসরণ করতে জনগণকে পরিচালিত করছে।

৩২ এখন আলমা তাকে বললেন: তুমি জানো যে আমরা এই জনগণের পরিশ্রম দ্বারা নিজেরা বিলাসিতা করি না; কারণ দেখো, বিচারকদের রাজত্বকালের শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত, আমি নিজ হাতে আমার ভরণপোষণের জন্য পরিশ্রম করছি, তা সত্ত্বেও আমি আমার লোকদের কাছে ঈশ্বরের বাক্য প্রচার করার জন্য ভূমির চারপাশে অনেক যাত্রা করেছি।

৩৩ এবং মন্ডলীতে আমি অনেক পরিশ্রম করেছি তা সত্ত্বেও, আমি আমার পরিশ্রমের জন্য এক সেনাইনের মতো এতোটা কখনও পাইনি; আমার ভাইদের মধ্যেও কেউই পায়নি, বিচার-আসনে সেবা দেওয়ার সময় ছাড়া; এবং তারপর আমরা আইন অনুসারে বিচারের কাজে আমাদের সময় ব্যয় করার জন্য পেয়েছি।

৩৪ এবং এখন, যদি আমরা মন্ডলীতে আমাদের পরিশ্রমের জন্য কিছু না পাই, তবে মন্ডলীতে পরিশ্রম করে আমাদের কী লাভ হবে সত্য ঘোষণা করা ছাড়া, যাতে আমরা আমাদের ভাইদের আনন্দে উল্লোসিত হতে পারি?

৩৫ তাহলে তুমি কেনো বলছো যে, আমরা লাভের জন্য এই লোকদের কাছে প্রচার করি, যখন তুমি নিজেই জানো যে, আমরা কোনো পারিশ্রমিক পাই না? এবং এখন, তুমি কি বিশ্বাস করো যে আমরা এই লোকদের প্রতারণা করছি, যা তাদের হৃদয়ে এতো আনন্দ বয়ে নিয়ে আসে?

৩৬ এবং কোরিহোর তাঁকে উত্তর দিলো, হ্যাঁ।

৩৭ এবং আলমা তাকে বললেন: তুমি কি বিশ্বাস করো যে ঈশ্বর আছেন?

৩৮ এবং সে উত্তর দিলো, না।

৩৯ এখন আলমা তাকে বললেন: তুমি কি আবার অস্বীকার করবে যে ঈশ্বর আছেন, এবং খ্রীষ্টকেও অস্বীকার করবে? কারণ দেখো, আমি তোমাকে বলছি, ঈশ্বর আছেন, এবং আরো বলছি যে খ্রীষ্ট আসবেন।

৪০ এবং এখন তোমার কাছে কি প্রমাণ আছে যে, ঈশ্বর বলে কেউ নেই, অথবা খ্রীষ্ট আসবেন না? আমি তোমাকে বলছি যে, তোমার কিছুই নেই, তোমার কথা ছাড়া।

৪১ কিন্তু দেখো, আমার কাছে সাক্ষ্য স্বরূপ সমস্ত কিছুই আছে যে, এই বিষয়গুলো সত্য; এবং তোমার কাছেও সাক্ষ্য স্বরূপ সমস্ত কিছুই আছে যে, সেগুলো সত্য; এবং তুমি কি সেগুলো অস্বীকার করবে? তুমি কি বিশ্বাস করো যে, এই বিষয়গুলো সত্য?

৪২ দেখো, আমি জানি যে তুমি বিশ্বাস করো, কিন্তু তুমি মিথ্যাবাদী আত্মায় আচ্ছন্ন, এবং তুমি ঈশ্বরের আত্মাকে পরিত্যাগ করেছো, যেনো তোমার অন্তরে তাঁর কোনো স্থান না থাকে; কিন্তু শয়তান তোমার উপরে ক্ষমতা রাখে, এবং সে তোমাকে নিয়ে ঘুরে বেড়ায়, পরিকল্পনা করে যাতে সে ঈশ্বরের সন্তানদের ধ্বংস করতে পারে।

৪৩ এবং এখন কোরিহোর আলমাকে বললো: যদি আপনি আমাকে একটা চিহ্ন দেখান, যাতে আমি নিশ্চিত হতে পারি যে একজন ঈশ্বর আছেন, হ্যাঁ, আমাকে দেখান যে তাঁর ক্ষমতা আছে, এবং তখন আমি আপনার কথার সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হবো।

৪৪ এবং আলমা তাকে বললেন: তোমার কাছে যথেষ্ট চিহ্ন আছে; তুমি কি তোমার ঈশ্বরের পরীক্ষা করবে? তুমি কি বলবে, আমাকে একটা চিহ্ন দেখাও, যখন তোমার কাছে তোমার এই সকল ভাইদের এবং সকল পবিত্র ভাববাদীদের সাক্ষ্য রয়েছে? ধর্মশাস্ত্র সুস্পষ্ট এবং তোমার সামনে রাখা হয়েছে, হ্যাঁ, এবং সমস্ত কিছুই চিহ্নিত করে একজন ঈশ্বর আছেন; হ্যাঁ, এমনকি পৃথিবী, এবং এর পৃষ্ঠে থাকা সমস্ত কিছুই, হ্যাঁ, এবং এর গতি, হ্যাঁ, এবং সকল গ্রহ যা তাদের নিয়মিত গতিতে চলে, সাক্ষ্য দেয় যে একজন সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টিকর্তা আছেন।

৪৫ এবং তবুও কি তুমি, এই লোকদের হৃদয়গুলোকে ভুল পথে পরিচালিত করবে, তাদের কাছে এই সাক্ষ্য দিয়ে যে কোনো ঈশ্বর নেই? এবং এই সমস্ত সাক্ষী থাকার পরেও এখনো কি তুমি অস্বীকার করবে? এবং সে বললো: হ্যাঁ, আমি অস্বীকার করবো, যদি না আপনি আমাকে একটা চিহ্ন দেখান।

৪৬ এবং এখন এটা ঘটলো যে আলমা তাকে বললেন: দেখো, তোমার হৃদয়ের কঠোরতার কারণে আমি দুঃখিত, হ্যাঁ, তুমি এখনও সত্যের আত্মাকে প্রতিরোধ করছো, যাতে তোমার আত্মা ধ্বংস হয়ে যায়।

৪৭ কিন্তু দেখো, তোমার মিথ্যা কথা এবং মিথ্যা প্রশংসার বাক্যের দ্বারা বহু আত্মাকে ধ্বংসের পথে নামিয়ে নেওয়ার চেয়ে তোমার আত্মা ধ্বংস হওয়াই শ্রেয়; অতএব যদি তুমি আবার অস্বীকার করো, তবে দেখো ঈশ্বর তোমাকে আঘাত করবেন যে, তুমি বোবা হয়ে যাবে, যেনো তুমি আর কখনো মুখ খুলতে না পারো, যাতে তুমি এই জনগণকে আর প্রতারিত না করতে পারো।

৪৮ এখন কোরিহোর তাঁকে বললো: আমি ঈশ্বরের অস্তিত্ব অস্বীকার করি না, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি না যে ঈশ্বর আছেন; এবং আমি এও বলি যে, আপনিও জানেন না যে ঈশ্বর আছেন; এবং আপনি আমাকে কোনো চিহ্ন দেখানো ছাড়া, আমি বিশ্বাস করবো না।

৪৯ এখন আলমা তাকে বললেন: এইটা আমি তোমাকে একটা চিহ্ন স্বরুপ দেবো যে, আমার কথা অনুসারে, তুমি বোবা হয়ে যাবে; এবং আমি ঈশ্বরের নামে বলছি, তুমি বোবা হয়ে যাবে, যেনো তোমার আর কথা বলার শক্তি না থাকে।

৫০ এখন আলমা যখন এই কথাগুলো বলেছিলেন, কোরিহোর তখন বোবা হয়ে গিয়েছিলো ফলে আলমার কথা অনুসারে, সে ‌কথা বলার শক্তি পেলো না।

৫১ এবং এখন প্রধান বিচারক যখন এটা দেখলেন, তখন তিনি হাত বাড়ালেন এবং কোরিহোরের কাছে লিখে, বললেন: তুমি কি ঈশ্বরের ক্ষমতা সম্পর্কে নিশ্চিত? তুমি কার মধ্যে চেয়েছিলে যে, আলমা তাঁর চিহ্ন প্রকাশ করুক? তুমি কি চেয়েছিলে যে, তিনি অন্যদেরকে কষ্ট দেবেন, তোমাকে একটা চিহ্ন দেখানোর জন্য? দেখো, তিনি তোমাকে একটা চিহ্ন দেখিয়েছেন; এবং এখন কি তুমি আরো তর্ক করবে?

৫২ এবং কোরিহোর হাত বাড়ালো এবং লিখে, বললো: আমি জানি যে আমি বোবা, কারণ আমি কথা বলতে পারি না; এবং আমি জানি যে, ঈশ্বরের শক্তি ব্যতীত আর কিছুই আমার উপর এটা আনতে পারে না; হ্যাঁ, এবং আমি সবসময় জানতাম যে একজন ঈশ্বর আছেন।

৫৩ কিন্তু দেখুন, শয়তান আমাকে প্রতারিত করেছে; কারণ সে আমার কাছে স্বর্গদূতের রূপে আবির্ভূত হয়েছিলো, এবং আমাকে বলেছিলো: যাও এবং এই লোকদের পুনরুদ্ধার করো, কারণ তারা সকলেই পথভ্রষ্ট হয়েছে এক অজানা ঈশ্বরকে অনুসরণ করে। এবং সে আমাকে বললো: কোনো ঈশ্বর নেই; হ্যাঁ, এবং সে আমাকে যা বলতে হবে তা শিখিয়েছিলো। এবং আমি তার বাক্য শিখিয়েছি; এবং আমি তাদেরকে শিক্ষা দিয়েছিলাম কেননা সেগুলো জাগতিক মনের কাছে প্রীতিকর ছিলো; এবং আমি তাদেরকে শিক্ষা দিয়েছিলাম, এমনকি যতক্ষণ না আমি অনেক সফলতা লাভ করেছিলাম, যার ফলে আমি সত্যিই বিশ্বাস করেছিলাম যে সেগুলো সত্য ছিলো; এবং এই কারণে আমি সত্যকে প্রতিরোধ করেছি, এমনকি যতক্ষণ না আমি আমার উপর এই কঠিন অভিশাপ নিয়ে এসেছি।

৫৪ এখন যখন সে এই কথা বললো, তখন সে অনুরোধ করলো যে আলমা যেনো ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন, যেনো তার কাছ থেকে অভিশাপ তুলে নেওয়া হয়।

৫৫ কিন্তু আলমা তাকে বললেন: যদি তোমার কাছ থেকে এই অভিশাপ তুলে নেওয়া হয় তবে তুমি আবার এই লোকদের হৃদয় ভুল পথে পরিচালিত করবে; অতএব, প্রভু যেমন চান তোমার প্রতি তাই হবে।

৫৬ এবং এটা ঘটলো যে কোরিহোরের উপর থেকে অভিশাপ তুলে নেওয়া হয়নি; কিন্তু তাকে বিতাড়িত করা হয়েছিলো, এবং বাড়ি বাড়ি ঘুরে তার খাবারের জন্য ভিক্ষা করতে লাগলো।

৫৭ এখন কোরিহোরের প্রতি যা ঘটেছিলো তার গল্প তৎক্ষণাৎ সমস্ত ভূমিতে প্রকাশিত হয়েছিলো; হ্যাঁ, প্রধান বিচারক ভূমির সকল লোকের কাছে এই ঘোষণা পাঠিয়েছিলেন, যারা কোরিহোরের কথায় বিশ্বাস করেছিলো তাদের কাছে ঘোষণা করা হয়েছিলো যে তাদের দ্রুত অনুতাপ করা উচিৎ, পাছে তাদের উপর যেনো একই বিচার না আসে।

৫৮ এবং এটা ঘটলো যে তারা সকলেই কোরিহোর মন্দতা সম্বন্ধে নিশ্চিত হলো; তাই তারা সকলেই আবার প্রভুতে পরিবর্তিত হয়েছিলো; এবং এর ফলে কোরিহোরের অন্যায় আচারণের অবসান ঘটে। এবং কোরিহোর বাড়ি বাড়ি ঘুরে, তার ভরণপোষণের জন্য খাবার ভিক্ষা করতো।

৫৯ এবং এটা ঘটলো যে যখন সে জনগণের মধ্যে গেলো, হ্যাঁ, এমন এক জনতার মধ্যে যারা নেফীয়দের কাছ থেকে নিজেদের পৃথক করেছিলো এবং সোরম নামক একজন ব্যক্তি দ্বারা পরিচালিত হয়ে, নিজেদেরকে সোরমীয় বলে পরিচয় দিতো—এবং যখন সে তাদের মধ্যে গিয়েছিলো, তখন দেখো, তার উপর চাকা চালানো হয়েছিলো এবং পদদলিত করা হয়েছিলো, এমনকি যতক্ষণ না পর্যন্ত সে মারা যায়।

৬০ এবং এভাবেই আমরা তার শেষ দেখতে পাই, যে প্রভুর পথসকল বিকৃত করে; এবং এভাবে আমরা দেখতে পাই যে, শয়তান শেষ দিনে তার সন্তানদের সাহায্য করবে না, বরং দ্রুত তাদেরকে নিচে নরকে টেনে নিয়ে যাবে।