অধ্যায় ৪
নেফীয়দের সেনাবাহিনী গাদিয়ানটন ডাকাতদের পরাজিত করে—গিদ্দিয়ানহীকে হত্যা করা হয়, এবং তার উত্তরাধিকারী সিমনারীহাকে ফাঁসি দেওয়া হয়—নেফীয়রা তাদের বিজয়ের জন্য প্রভুর প্রশংসা করে। প্রায় ১৯–২২ খ্রীষ্টাব্দে।
১ এবং এটা ঘটলো যে আঠেরোতম বছরের শেষের দিকে ঐ ডাকাতদের সৈন্যবাহিনী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়েছিলো, এবং পাহাড়, পর্বত, প্রান্তর, নিজেদের দুর্গ, ও গোপন স্থানসমূহ থেকে দ্রুত নেমে আসতে শুরু করেছিলো, এবং দক্ষিণে এবং উত্তরে উভয় ভূমি দখল করতে শুরু করেছিলো, নেফীয়দের দ্বারা পরিত্যক্ত সমস্ত রাজ্য, এবং যে শহরগুলো জনশূন্য হয়ে পড়েছিলো, সেগুলো দখল করতে শুরু করলো।
২ কিন্তু দেখো, নেফীয়দের দ্বারা পরিত্যক্ত সেই ভূমিগুলোতে, কোনো হিংস্র পশু বা শিকারও ছিলো না, এবং ডাকাতদের জন্য কোনো শিকার ছিলো না প্রান্তর ছাড়া।
৩ এবং ডাকাতেরা খাদ্যের জন্য, প্রান্তর ছাড়া থাকতে পারতো না; কারণ নেফীয়রা তাদের জমি জনশূন্য করে রেখেছিলো, এবং তাদের মেষপাল এবং তাদের পশুপাল এবং তাদের সমস্ত সম্পত্তি সংগ্রহ করেছিলো, এবং তারা এক গোষ্ঠীতে বসবাস করছিলো।
৪ অতএব, ডাকাতদের লুণ্ঠন ও খাদ্য সংগ্রহের কোনো উপায় ছিলো না, কেবল নেফীয়দের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে যুদ্ধে নেমে আসা ছাড়া; এবং নেফীয়রা এক গোষ্ঠীতে ছিলো, এবং তাদের সংখ্যা এতো বেশি থাকার ফলে, এবং নিজেদের জন্য খাদ্যদ্রব্য, এবং ঘোড়া ও গবাদি পশু, এবং সর্বপ্রকার পশুপাল সংরক্ষণ করেছিলো, যাতে তারা সাত বছর ধরে বেঁচে থাকতে পারে, সেই সময়ের মধ্যে তারা ভূমণ্ডল থেকে ডাকাতদের ধ্বংস করার আশা করেছিলো; এবং এভাবেই আঠারোতম বছরটা কেটে গেলো।
৫ এবং ঊনিশতম বছরে গিদ্দিয়ানহী বুঝতে পেরেছিলো যে, নেফীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে যাওয়া দরকার, কারণ লুণ্ঠন, ও ডাকাতি ও হত্যা করা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় ছিলো না বাঁচার।
৬ এবং তারা শস্য উৎপাদন করার জন্য ভূমণ্ডলে নিজেদের ছড়িয়ে দিতে সাহস করেনি, পাছে নেফীয়রা তাদের উপর এসে তাদের হত্যা করবে; তাই গিদ্দিয়ানহী তার সৈন্যদের আদেশ দিয়েছিলো যে, সেই বছরে তারা যেনো নেফীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে যায়।
৭ এবং এটা ঘটলো যে তারা যুদ্ধ করতে এসেছিলো; এবং সেটা ছিলো ষষ্ঠ মাসে; এবং দেখো, যেদিন তারা যুদ্ধে এসেছিলো, সেই দিনটা বিরাট ও ভয়ঙ্কর ছিলো; এবং তারা ডাকাতদের মতো সেজে ছিলো; এবং তাদের কোমরে মেষশাবকের চামড়া ছিলো, এবং তারা রক্তে রঞ্জিত ছিলো, এবং তাদের মাথার চুল কাটা ছিলো, এবং তাদের মাথার উপর বর্ম ছিলো; এবং গিদ্দিয়ানহীর সেনাবাহিনীর চেহারা ছিলো বিশাল ও ভয়ানক, তাদের বর্মের কারণে, এবং তারা রক্তে রঞ্জিত হওয়ার কারণে।
৮ এবং এটা ঘটলো যে যখন নেফীয় সৈন্যরা গিদ্দিয়ানহীর সৈন্যদলের চেহারা দেখলো, তখন সকলে মাটিতে পড়ে গেলো, এবং তাদের প্রভু ঈশ্বরের কাছে তারা মিনতি করতে লাগলো, যাতে তিনি তাদের রক্ষা করেন এবং তাদের শত্রুদের হাত থেকে তাদের উদ্ধার করেন।
৯ এবং এটা ঘটলো যে গিদ্দিয়ানহীর সৈন্যরা যখন তা দেখলো তখন তারা আনন্দের কারণে, উচ্চস্বরে চিৎকার করতে লাগলো, কারণ তারা ধারণা করেছিলো যে নেফীয়রা তাদের সেনাবাহিনীর আতঙ্কের কারণে ভয়ে পড়ে গেছে।
১০ কিন্তু এই বিষয়ে তারা হতাশ হয়েছিলো, কারণ নেফীয়রা তাদের ভয় করেনি; কিন্তু তারা তাদের ঈশ্বরকে ভয় করেছিলো এবং সুরক্ষার জন্য তাঁর কাছে প্রার্থনা করেছিলো; অতএব, যখন গিদ্দিয়ানহীর সেনাবাহিনী তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো তখন তারা তাদের প্রতিরোধ করার জন্য প্রস্তুত ছিলো; হ্যাঁ, প্রভুর শক্তিতে তারা তাদের গ্রহণ করেছিলো।
১১ এবং এই ষষ্ঠ মাসে যুদ্ধ আরম্ভ হয়েছিলো; এবং সেই যুদ্ধ বিশাল ও ভয়ানক ছিলো, হ্যাঁ, এর হত্যার সংখ্যা বিশাল ও ভয়ানক ছিলো, এতটাই যে, লেহী যিরূশালেম ত্যাগ করার পর থেকে সমস্ত লোকের মধ্যে এতো ব্যাপকহারে হত্যার কথা কখনো জানা যায়নি।
১২ এবং গিদ্দিয়ানহীর হুমকি ও শপথ সত্ত্বেও, দেখো, নেফীয়রা তাদের পরাজিত করেছিলো, এতটাই যে তারা তাদের সামনে থেকে প্রস্থান করেছিলো।
১৩ এবং এটা ঘটলো যে গিদগিদ্দোনী তাঁর সৈন্যদের আদেশ দিয়েছিলেন যে তারা প্রান্তরের সীমানা পর্যন্ত তাদের তাড়া করবে, এবং পথে তাদের হাতে কেউ পড়লে তারা তাকে রেহাই দেবে না; এবং এভাবে তারা তাদের তাড়া করলো এবং প্রান্তরের সীমানা পর্যন্ত, তাদের হত্যা করলো, এমনকি যতক্ষণ না তারা গিদগিদ্দোনীর আদেশ পূর্ণ করলো।
১৪ এবং এটা ঘটলো যে গিদ্দিয়ানহী, যে নির্ভয়ে দাঁড়িয়েছিলো ও যুদ্ধ করেছিলো, তাকে তাড়া করা হয় যখন সে পালিয়ে যায়; এবং প্রচুর লড়াইয়ের কারণে ক্লান্ত হয়ে পড়ার জন্য তাকে ধরে ফেলা হয় এবং হত্যা করা হয়। আর এভাবেই ডাকাত গিদ্দিয়ানহীর পরিণতি ঘটেছিলো।
১৫ এবং এটা ঘটলো যে নেফীয়দের সৈন্যরা আবার তাদের সুরক্ষিত জায়গায় ফিরে যায়। এবং এটা ঘটলো যে এই ঊনিশতম বছর অতিবাহিত হয়েছিলো, এবং ডাকাতরা আর যুদ্ধে আসেনি; বিশতম বছরেও তারা আর আসেনি।
১৬ আর একুশতম বছরেরর মধ্যে তারা যুদ্ধ করতে আসলো না, কিন্তু নেফীর লোকদের চারিদিকে অবরোধ করার জন্য চতুর্দিক থেকে এসে ঘিরেছিলো; কারণ তারা মনে করেছিলো যে, যদি তারা নেফীর লোকদের তাদের ভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়, এবং তাদের চারদিক থেকে বদ্ধ করে, এবং যদি তারা তাদের সমস্ত বাহ্যিক সুযোগ-সুবিধা থেকে তাদের বিচ্ছিন্ন করে, তবে তারা তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী আত্মসমর্পণ করাতে পারবে।
১৭ এখন তারা নিজেদের জন্য আরেকজন দলনেতা নিযুক্ত করেছিলো, যার নাম সিমনারীহা ছিলো; অতএব এটা সিমনারীহাই ছিলো যে এই অবরোধ ঘটিয়েছিলো।
১৮ কিন্তু দেখো, নেফীয়দের জন্য এটা একটা সুবিধা ছিলো; কারণ ডাকাতদের জন্য নেফীয়দের উপর দীর্ঘ কাল ধরে অবরোধের মাধ্যমে কোনো প্রভাব ফেলা অসম্ভব ছিলো, কারণ তারা নিজেদের জন্য প্রচুর খাদ্যদ্রব্য সঞ্চয় করেছিলো,
১৯ এবং ডাকাতদের মধ্যে খাদ্যদ্রব্যের অভাবের কারণে; কারণ দেখো, তাদের জীবিকা নির্বাহের জন্য মাংস ব্যতীত তাদের আর কিছুই ছিলো না, যে মাংস তারা প্রান্তরে পেতো;
২০ এবং এটা ঘটলো যে প্রান্তরে বন্য পশুর সংখ্যা এতটাই কমে যেতে লাগলো যে ক্ষুধায় ডাকাতেরা প্রায় ধ্বংস হতে চলেছিলো।
২১ এবং নেফীয়রা দিনে রাতে ক্রমাগত যাত্রা করতে লাগলো, এবং তাদের সৈন্যদলের উপর আক্রমণ করতে লাগলো, এবং হাজারে ও দশ হাজারে তাদেরকে হত্যা করতে লাগলো।
২২ এবং এইভাবে এটা সিমনারীহার লোকেদের আকাঙ্ক্ষা হয়ে দাঁড়ালো যে তারা তাদের পরিকল্পনা থেকে সরে আসবে, রাতে ও দিনে তাদের উপর যে বিরাট ধ্বংস নেমে এসেছিলো তার কারণে।
২৩ এবং এটা ঘটলো যে সিমনারীহা তার লোকেদের আদেশ দিয়েছিলো যে, তারা যাতে অবরোধ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়, এবং উত্তর দিকের ভূমির দূরবর্তী অংশগুলোতে অগ্রসর হয়।
২৪ এবং এখন, যেহেতু গিদগিদ্দোনী তাদের পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতন ছিলেন, এবং খাদ্যের অভাবের কারণে তাদের দুর্বলতা সম্পর্কে জানতেন, এবং তাদের মধ্যে যে মহা হত্যাকান্ড করা হয়েছিলো তা জানতেন, তাই তিনি রাতের বেলায় তার সেনাবাহিনী পাঠালেন, এবং তাদের পশ্চাদপসরণের পথ বন্ধ করে দিলো, এবং তাদের পশ্চাদপসরণের পথে তাঁর সেনাবাহিনীদের স্থাপন করলেন।
২৫ এবং তারা রাতেরবেলা তা করলো, এবং ডাকাতদের অতিক্রম করে অগ্রসর হলো, যাতে আগামীকাল, যখন ডাকাতরা অগ্রসর হতে আরম্ভ করলো, তখন তাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে উভয় স্থানেই নেফীয়দের সেনাবাহিনীর মুখোমুখি হতে হয়।
২৬ এবং দক্ষিণ দিকে ডাকাতদেরও তাদের পশ্চাদপসরণের স্থানে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিলো। এবং এই সকল বিষয় করা হয়েছিলো গিদগিদ্দোনীর আদেশ অনুযায়ী।
২৭ এবং সেখানে অনেক হাজার ছিলো যারা নেফীয়দের কাছে নিজেদের বন্দী হিসেবে সমর্পণ করেছিলো, এবং অবশিষ্টদের হত্যা করা হয়েছিলো।
২৮ এবং তাদের নেতা, সিমনারীহাকে, নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো এবং একটা গাছে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিলো, হ্যাঁ, এমনকি গাছটার উপরে যতক্ষণ না পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়েছিলো। এবং যখন তারা তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রেখেছিলো যতক্ষণ পর্যন্ত না সে মারা গিয়েছিলো, তখন তারা গাছটা কেটে মাটিতে ফেলেছিলো, এবং উচ্চস্বরে চিৎকার করে বলেছিলো:
২৯ প্রভু তাঁর লোকদের ধার্মিকতায় ও হৃদয়ের পবিত্রতায় রক্ষা করুক, যাতে যারা তাদের হত্যা করতে চায় তাদের ক্ষমতা ও গুপ্ত সংঘের কারণে, তাদের সকলকে যেনো মাটিতে পতিত করেন, যেভাবে এই লোকটাকে মাটিতে পতিত করা হয়েছে।
৩০ এবং তারা আনন্দিত হয়ে আবার একটা চিৎকার করে বলতে লাগলো: আব্রাহমের ঈশ্বর, এবং ইসহাকের ঈশ্বর, এবং যাকোবের ঈশ্বর যেনো এই লোকদের ধার্মিকতায় রক্ষা করেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা সুরক্ষার জন্য তাদের ঈশ্বরের নাম ডাকে।
৩১ এবং এটা ঘটলো যে তারা সকলে একত্রিত হয়ে, গানে ভেঙে পড়লো, এবং তাদের ঈশ্বরের প্রশংসা করতে লাগলো, তাদের জন্য যে মহৎ কাজ তিনি করেছিলেন তার ব্যাপারে, তাদের শত্রুদের হাতে পতিত হওয়ার থেকে সংরক্ষণ করার জন্য।
৩২ হ্যাঁ, তারা বললো: সর্বোচ্চ ঈশ্বরের প্রতি হোশান্না। এবং তারা বললো: সর্বশক্তিমান প্রভু ঈশ্বরের নাম ধন্য হোক, যিনি হলেন সর্বোচ্চ ঈশ্বর।
৩৩ এবং তাদের হৃদয় আনন্দে ফুলে উঠলো, যতক্ষণ না অনেক অশ্রু প্রবাহিত হলো, ঈশ্বরের দয়ার কারণে তাদের শত্রুদের হাত থেকে তাদের উদ্ধার করার জন্য; এবং তারা জানতো যে তাদের অনুতাপ এবং তাদের নম্রতার কারণেই তারা একটা চিরস্থায়ী ধ্বংস থেকে মুক্তি পেয়েছিলো।