অধ্যায় ১৩
যীশু নেফীয়দের প্রভুর প্রার্থনা শেখান—তারা স্বর্গে ধন সংগ্রহ করবে—বারোজন শিষ্যদেরকে তাদের পরিচর্যা কাজে পার্থিব বিষয়গুলোর ব্যাপারে কোনও চিন্তা না করার আদেশ দেওয়া হয়েছে—তুলনা করো মথি ৬। প্রায় ৩৪ খ্রীষ্টাব্দে।
১ সত্যি, সত্যি, আমি বলছি যে আমি চাই তোমরা গরীবদের জন্য দান করো; কিন্তু খেয়াল রেখো যে তোমরা লোকেদের সামনে দান কোরো না যাতে তারা দেখে; অন্যথায় তোমাদের স্বর্গের পিতার কাছ থেকে কোনো পুরস্কার পাবে না।
২ তাই, যখন তোমরা দান করবে তখন তোমাদের সামনে ঢাক বাজিয়ো না, যেমনটা ভণ্ডেরা উপাসনালয়ে ও রাস্তাঘাটে করে, যাতে তারা মানুষের গৌরব পায়। সত্যি, আমি তোমাকে বলছি, তারা তাদের প্রাপ্য পুরস্কার পাবে।
৩ কিন্তু যখন তুমি দান করবে তখন তোমার বাম হাতকে জানতে দিয়ো না তোমার ডান হাত কি করছে;
৪ যাতে তোমার দান গোপনেই থাকে; এবং তোমার পিতা যিনি গোপনে দেখেন, তিনিই তোমাকে প্রকাশ্যে পুরস্কার দেবেন।
৫ আর যখন তুমি প্রার্থনা করবে তখন ভণ্ডদের মতো করবে না, কারণ তারা উপাসনালয়ে ও রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করতে ভালোবাসে, যাতে মানুষেরা তাকে দেখতে পায়। সত্যি, আমি তোমাকে বলছি, তারা তাদের প্রাপ্য পুরস্কার পাবে।
৬ কিন্তু তুমি, যখন তুমি প্রার্থনা করবে, তোমার কক্ষে প্রবেশ করো, এবং তুমি তোমার দরজা বন্ধ করে, তোমার পিতার কাছে প্রার্থনা করো, যিনি গোপনে আছেন; এবং তোমার পিতা, যিনি গোপনে দেখেন, তিনি তোমাকে প্রকাশ্যে পুরস্কার দেবেন।
৭ কিন্তু যখন তুমি প্রার্থনা করবে, তখন নাস্তিকদের মতো, নিরর্থক পুনরাবৃত্তি ব্যবহার করো না, কারণ তারা মনে করে যে বেশি কথা বলার জন্য তাদের প্রার্থনা শোনা হবে।
৮ অতএব তুমি তাদের মতো হয়ো না, কারণ তোমার পিতার কাছে চাওয়ার আগেই তোমার কোন জিনিসের প্রয়োজন তা তিনি জানেন।
৯ এই প্রকারে তাই তুমি প্রার্থনা করবে: আমাদের স্বর্গস্থ পিতা, তোমার নাম পবিত্র বলে মান্য হোক।
১০ তোমার ইচ্ছা পূর্ণ হোক যেমন স্বর্গে তেমনি পৃথিবীতেও হোক।
১১ এবং আমাদের ঋণ সকল ক্ষমা করো, যেমন আমরা আমাদের ঋণীদের ক্ষমা করি।
১২ এবং আমাদের প্রলোভনের মধ্যে পড়তে দিও না, কিন্তু মন্দ থেকে রক্ষা করো।
১৩ কারণ রাজ্য, এবং ক্ষমতা, এবং গৌরব, চিরকাল তোমারই। আমেন।
১৪ কারণ, যদি তুমি মানুষকে তাদের অপরাধের জন্য ক্ষমা করো, তবে তোমার স্বর্গীয় পিতাও তোমাকে ক্ষমা করবেন;
১৫ কিন্তু যদি তুমি মানুষকে তাদের অপরাধের জন্য ক্ষমা না করো তবে তোমার পিতাও তোমাকে অপরাধের জন্য ক্ষমা করবেন না।
১৬ এছাড়াও, যখন তুমি উপবাস করবে, তখন ভণ্ডদের মতো, বিষণ্ণ মুখ করে থেকো না, কারণ তারা তাদের মুখ বিকৃত করে যাতে মানুষরা তাদের দেখতে পায় যে তারা উপবাস করছে। সত্যি, আমি তোমাকে বলছি, তারা তাদের প্রাপ্য পুরস্কার পাবে।
১৭ কিন্তু তুমি, যখন তুমি উপবাস করবে, তখন তোমার মাথায় তেল লেপন কোরো, এবং তোমার মুখ ধোও;
১৮ যাতে লোকেরা তোমায় উপবাস করতে দেখতে না পায়, কিন্তু তোমার পিতা ছাড়া, যিনি গোপনে আছেন; এবং তোমার পিতা, যিনি গোপনে দেখেন, তিনি তোমাকে প্রকাশ্যে পুরস্কার দেবেন।
১৯ পৃথিবীতে নিজেদের জন্য ধন সঞ্চয় কোরো না, যেখানে পতঙ্গ ও মরিচা ক্ষয় করে, এবং চোরেরা সিঁধ কেটে চুরি করে;
২০ কিন্তু স্বর্গে নিজেদের জন্য ধন সঞ্চয় করো, যেখানে পতঙ্গ বা মরিচাও ক্ষয় করে না, এবং যেখানে চোরেরা সিঁধ কেটে চুরিও করতে পারে না।
২১ কারণ যেখানে তোমার ধন, সেখানে তোমার হৃদয়ও থাকবে।
২২ চোখ হচ্ছে শরীরের প্রদীপ; তাই, তোমার চোখ যদি একক থাকে, তবে তোমার সমস্ত শরীর দীপ্তিময় হবে।
২৩ কিন্তু তোমার চোখ যদি মন্দ হয়, তবে তোমার সমস্ত শরীর অন্ধকারে পূর্ণ হবে। তাই, তোমার মধ্যে প্রদীপ যদি অন্ধকার হয়, তবে সেই অন্ধকারটা কতটাই না বৃহৎ!
২৪ কোনো মানুষই দুই প্রভুর সেবক হতে পারে না; কারণ হয় সে একজনকে ঘৃণা করবে এবং অপরজনকে ভালোবাসবে, নয়তো সে একজনের অনুগত হবে এবং অপরজনকে অবজ্ঞা করবে। তুমি ঈশ্বর এবং ধনকে সেবা করতে পারো না।
২৫ এবং এখন এটা ঘটলো যে যীশু যখন এই কথাগুলো বললেন তখন তিনি সেই বারোজনের দিকে তাকালেন যাদের তিনি বেছে নিয়েছিলেন, এবং তাদের বললেন: আমি যে বাক্য বলেছি তা মনে রেখো। কারণ দেখো, তোমরাই সেই যাদের আমি এই লোকেদের পরিচর্যা করার জন্য মনোনীত করেছি। তাই আমি তোমাদের বলছি, তোমাদের জীবন নিয়ে চিন্তা করো না, তোমরা কি খাবে, বা কি পান করবে তা নিয়ে; বা তোমাদের শরীরের জন্যও নয়, তোমরা কি পরবে তা নিয়ে। জীবন কি খাদ্যের চেয়ে বেশি মূল্যবান নয়, কিংবা শরীর কি পোশাকের চেয়ে বেশি মূল্যবান নয়?
২৬ আকাশের পাখিদের দেখো, কারণ তারা বপনও করে না, কাটেও না বা শস্যাগারে জমাও করে না; তবুও তোমাদের স্বর্গীয় পিতা তাদের আহার যোগান। তোমরা কি তাদের চেয়ে অধিক শ্রেষ্ঠ নও?
২৭ তোমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে চিন্তা করে নিজের উচ্চতাকে এক হাত বাড়াতে পারে?
২৮ আর পোশাকের ব্যাপারে এত চিন্তিত কেনো? ক্ষেতের লিলি ফুলগুলো কীভাবে বেড়ে ওঠে তা বিবেচনা করো; তারা পরিশ্রমও করে না, সুতাও কাটে না;
২৯ তথাপি আমি তোমাদের বলছি, এমনকি শলোমনও, তার সমস্ত মহিমায়, এদের মতো সুসজ্জিত ছিলো না।
৩০ তাই, ঈশ্বর যদি মাঠের ঘাসকে সুশোভিত করেন, যা আজ আছে, এবং আগামীকাল চুলায় নিক্ষিপ্ত করা হবে, এমনভাবেই তিনি তোমাদেরও ভূষিত করবেন, যদি তোমরা অল্প বিশ্বাসী না হও।
৩১ অতএব চিন্তা কোরো না, এই বলে, আমরা কি খাবো? অথবা, আমরা কি পান করবো? অথবা, আমরা কি পরিধান করবো?
৩২ কারণ তোমাদের স্বর্গীয় পিতা জানেন যে তোমাদের এই সমস্ত কিছুর প্রয়োজন আছে।
৩৩ কিন্তু তোমরা প্রথমে ঈশ্বরের রাজ্য ও তাঁর ধার্মিকতার খোঁজ করো, এবং এই সমস্ত কিছু তোমাদের দেওয়া হবে।
৩৪ সুতরাং আগামীকালের জন্য এতো ভাববে না, কারণ আগামীকালের বিষয়গুলো নিয়ে ভাবনা আগামীকালই ভাববে। একদিনের অমঙ্গল সেই দিনের জন্য যথেষ্ট।