অধ্যায় ১৮
যীশু নেফীয়দের মধ্যে প্রভুর ভোজ প্রতিষ্ঠা করেন—তাদের সর্বদা তাঁর নামে প্রার্থনা করতে আদেশ করা হয়—যারা অযোগ্যভাবে তাঁর দেহ খায় এবং তাঁর রক্ত পান করে তারা দোষী সাব্যস্ত হবে—শিষ্যদেরকে পবিত্র আত্মা প্রদান করার ক্ষমতা দেওয়া হয়। প্রায় ৩৪ খ্রীষ্টাব্দে ।
১ এবং এটা ঘটলো যে যীশু তাঁর শিষ্যদের আদেশ করলেন যে তাঁরা যেনো তাঁর কাছে কিছু রুটি ও দ্রাক্ষাসুরা নিয়ে আসে।
২ এবং যখন তাঁরা রুটি ও দ্রাক্ষাসুরা আনতে গিয়েছিলো, তখন তিনি জনতাকে আদেশ দিলেন যে তারা যেনো মাটিতে বসে।
৩ এবং যখন শিষ্যরা রুটি ও দ্রাক্ষাসুরা নিয়ে আসলেন, তখন তিনি রুটি নিয়ে টুকরো করে আশীর্বাদ করলেন; এবং তিনি শিষ্যদের দিলেন এবং তাঁদের খেতে আদেশ করলেন।
৪ যখন তাঁরা খেয়ে তৃপ্ত হলেন, তখন তিনি আদেশ দিলেন যেনো তাঁরা জনতাকেও দেন।
৫ এবং যখন জনতা খেয়ে তৃপ্ত হলো, তখন তিনি শিষ্যদের বললেন: দেখো তোমাদের মধ্যে একজনকে নিযুক্ত করা হবে, এবং আমি তাঁকে ক্ষমতা দেবো যে সে রুটি ভাঙ্গবে এবং আশীর্বাদ করবে এবং আমার মন্ডলীর লোকদের দেবে, যারা বিশ্বাস করবে এবং আমার নামে বাপ্তিস্ম নেবে তাদের সকলের কাছে।
৬ এবং এটাই তোমরা সর্বদা করার চেষ্টা করবে, আমি যেমন করেছি, যেমন ভাবে আমি রুটি ভেঙ্গেছি এবং আশীর্বাদ করেছি এবং তোমাদেরকে দিয়েছি।
৭ আমার দেহের কথা মনে রাখার জন্য তোমরা তা করবে, যা আমি তোমাদের দেখিয়েছি। এবং এটা পিতার কাছে একটা সাক্ষ্য হবে যে তোমরা সর্বদা আমাকে স্মরণ করো। এবং যদি তোমরা আমাকে সর্বদা স্মরণ করো তবে আমার আত্মা তোমাদের সাথে থাকবে।
৮ এবং এটা ঘটলো যে যখন তিনি এই কথাগুলো বললেন, তখন তিনি তাঁর শিষ্যদের আদেশ দিলেন যে তাঁরা যাতে পেয়ালা থেকে দ্রাক্ষাসুরা গ্রহণ করেন এবং তা পান করেন, এবং তাঁরা যেনো জনগণকেও তা পান করতে দেন।
৯ এবং এটা ঘটলো যে তাঁরা তাই করলো, এবং তা পান করলেন এবং তৃপ্ত হলেন; এবং তারা জনগণকেও তা দিলেন, এবং তারা পান করলো, এবং তারা তৃপ্ত হলো।
১০ এবং শিষ্যরা যখন এই কাজটা করলো, তখন যীশু তাদের বললেন: তোমরা যা করেছো এই কাজটার জন্য তোমরা ধন্য, কারণ এটাই আমার আজ্ঞাসকল পূর্ণ করা, এবং এটা পিতার কাছে সাক্ষ্য দেয় যে আমি তোমাদের যা আদেশ করেছি তোমরা তা করতে ইচ্ছুক।
১১ এবং যারা অনুতপ্ত হবে এবং আমার নামে বাপ্তিস্ম নেবে তাদের প্রতি তোমরা সর্বদা এই কাজ করবে; এবং তোমরা তা করবে আমার রক্তের স্মরণে, যা আমি তোমাদের জন্য ঝরিয়েছি, যাতে তোমরা পিতার কাছে সাক্ষ্য দিতে পারো যে তোমরা সর্বদা আমাকে স্মরণ করবে। এবং যদি তোমরা আমাকে সর্বদা স্মরণ করো তবে আমার আত্মা তোমাদের সাথে থাকবে।
১২ এবং আমি তোমাদেরকে একটা আজ্ঞা দিচ্ছি যে তোমরা এই কাজগুলো করবে। এবং যদি তোমরা সর্বদা এই কাজগুলো করো তবে তোমরা ধন্য, কারণ তোমরা আমার পাথরের উপর নির্মিত।
১৩ কিন্তু তোমাদের মধ্যে যারা এর চেয়ে বেশি বা কম করবে তারা আমার পাথরের উপর নির্মিত নয়, বরং বালুকাময় ভিত্তির উপর নির্মিত হয়েছে; এবং যখন বৃষ্টি নেমে আসবে, এবং বন্যা আসবে, এবং ঝড় বয়ে আসবে, এবং তাদের উপর আঘাত করবে, তখন তাদের পতন হবে, এবং নরকের দরজাগুলো তাদের গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত থাকবে।
১৪ তাই ধন্য তোমরা যদি আমার আজ্ঞা পালন করো, যা পিতা আমাকে আজ্ঞা দিয়েছেন যাতে আমি তোমাদের দিতে পারি।
১৫ সত্যি, সত্যি, আমি তোমাদের বলছি, তোমাদের অবশ্যই সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে এবং প্রার্থনা করতে হবে, পাছে শয়তানের দ্বারা প্রলুব্ধ হবে, এবং তোমরা তার দ্বারা বন্দী হয়ে পড়বে।
১৬ এবং আমি যেমন তোমাদের মধ্যে প্রার্থনা করেছি তেমনি তোমরাও আমার মণ্ডলীতে প্রার্থনা করবে, আমার লোকেদের মধ্যে যারা অনুতপ্ত হয়েছে এবং আমার নামে বাপ্তিস্ম নিয়েছে। দেখো আমিই আলো; আমি তোমাদের জন্য একটা উদাহরণ স্থাপন করেছি।
১৭ এবং এটা ঘটলো যে যীশু যখন তাঁর শিষ্যদের কাছে এই কথাগুলো বললেন, তখন তিনি জনতার দিকে ফিরলেন এবং তাদের বললেন:
১৮ দেখো, সত্যি, সত্যি, আমি তোমাদের বলছি, তোমরা সবসময় জাগ্রত থাকবে এবং প্রার্থনা করবে যাতে তোমরা প্রলোভনে না পড়ো; কারণ শয়তান তোমাকে পেতে চায়, যাতে সে তোমাকে গমের মতো চালনা করতে পারে।
১৯ অতএব তোমরা সর্বদা আমার নামে পিতার কাছে প্রার্থনা করবে;
২০ এবং তোমরা আমার নামে পিতার কাছে যা চাইবে, যা সঠিক, বিশ্বাস করে যে তোমরা পাবে, দেখো তা তোমাদের দেওয়া হবে।
২১ তোমাদের পরিবারের সাথে সর্বদা আমার নামে পিতার কাছে প্রার্থনা করো, যাতে তোমাদের স্ত্রী ও সন্তানরা আশীর্বাদ পায়।
২২ এবং দেখো, তোমরা প্রায়ই একত্রিত হবে একসাথে; এবং যখন তোমরা একত্রিত হবে তখন তোমরা কোনো মানুষকে তোমাদের কাছে আসতে নিষেধ করবে না, কিন্তু তাদের সুযোগ দেবে যাতে তারা তোমাদের কাছে আসতে পারে এবং তাদের নিষেধ করবে না;
২৩ কিন্তু তোমরা তাদের জন্য প্রার্থনা করবে, এবং তাদের তাড়িয়ে দেবে না; এবং যদি এমন হয় যে তারা বারবার তোমাদের কাছে আসে তোমরা তাদের জন্য আমার নামে, পিতার কাছে প্রার্থনা করবে।
২৪ অতএব, তোমাদের আলোকে ধরে রাখো যাতে তা বিশ্বের কাছে আলোকিত হয়। দেখো আমিই সেই আলো যা তোমরা ধরে রাখবে—তোমরা আমাকে যা করতে দেখেছো। দেখো তোমরা দেখছো যে আমি পিতার কাছে প্রার্থনা করেছি, এবং তোমরা সবাই সাক্ষী হয়েছো।
২৫ এবং তোমরা দেখছো যে, আমি আজ্ঞা দিয়েছি যে তোমাদের কাউকেই দূরে যেতে হবে না, বরং আদেশ দিয়েছি যে তোমরা আমার কাছে আসো, যাতে তোমরা অনুভব করতে ও দেখতে পাও; তোমরাও জগতের প্রতি সেইরূপ করবে; এবং যে এই আজ্ঞা ভঙ্গ করবে সে নিজেকে প্রলোভনের মধ্যে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে।
২৬ এবং এখন এটা ঘটলো যে যীশু যখন এই কথাগুলো বলছিলেন, তখন তিনি তাঁর শিষ্যদের দিকে পুনরায় চোখ ফিরালেন যাদের তিনি মনোনীত করেছিলেন, এবং তাঁদের বললেন:
২৭ দেখো, সত্যি, সত্যি, আমি তোমাদের বলছি, আমি তোমাদের আর একটা আজ্ঞা দিচ্ছি, এবং তারপর আমাকে আমার পিতার কাছে চলে যেতে হবে যাতে তিনি আমাকে যে অন্যান্য আজ্ঞা দিয়েছেন তা আমি পূরণ করতে পারি।
২৮ এবং এখন দেখো, আমি তোমাদের এই আজ্ঞা দিচ্ছি যে, তোমরা যখন পরিচর্যা করবে, তখন তোমরা জেনে শুনে কাউকে আমার দেহ ও রক্ত অযোগ্যভাবে ভোগ করতে দেবে না;
২৯ কারণ যে আমার দেহ ও রক্ত অযোগ্যভাবে খাবে এবং পান করবে সে তার আত্মার জন্য অভিশাপ ডেকে আনবে এবং পান করবে; তাই যদি তোমরা জানতে পারো যে একজন মানুষ আমার দেহ ও রক্ত খাওয়ার ও পান করার অযোগ্য, তাহলে তোমরা তাকে নিষেধ করবে।
৩০ তা সত্ত্বেও, তোমরা তাকে তোমাদের মধ্যে থেকে তাড়িয়ে দেবে না, কিন্তু তোমরা তার পরিচর্যা করবে এবং আমার নামে, পিতার কাছে তার জন্য প্রার্থনা করবে; এবং যদি এমন হয় যে সে অনুতাপ করেছে এবং আমার নামে বাপ্তিস্ম নিয়েছে, তবে তোমরা তাকে গ্রহণ করবে, এবং আমার দেহ ও রক্ত দিয়ে তার পরিচর্যা করবে।
৩১ কিন্তু যদি সে অনুতাপ না করে তবে তাকে আমার লোকদের মধ্যে গণনা করা হবে না, যাতে সে আমার লোকদের ধ্বংস করতে না পারে, কারণ দেখো আমি আমার মেষদের জানি, এবং তাদের গণনা করা হয়েছে।
৩২ তা সত্ত্বেও, তোমরা তাকে তোমাদের উপাসনালয় বা আরাধনা করার জায়গা থেকে তাড়িয়ে দেবে না, কারণ তোমরা তাদের পরিচর্যা করতে থাকবে; কারণ তোমরা জানো না তারা ফিরে আসবে কিনা এবং অনুতপ্ত হবে কিনা, এবং হৃদয়ের পূর্ণ উদ্দেশ্য নিয়ে আমার কাছে আসবে কিনা, এবং আমি তাদের সুস্থ করে তুলবো; এবং তোমরাই হবে তাদের উদ্ধারের উপায়।
৩৩ অতএব, এই কথাগুলো মেনে চলো আমি যা তোমাদের আজ্ঞা দিয়েছি, যাতে তোমরা দোষে না পড়ো; কারণ পিতা যাকে দোষারোপ করেন তাকে ধিক্কার জানাই।
৩৪ এবং তোমাদের মধ্যে যে বিবাদ হয়েছে তার জন্যই আমি তোমাদের এই আজ্ঞাগুলো দিচ্ছি। এবং ধন্য তোমরা যদি তোমাদের মধ্যে কোনো বিবাদ না থাকে।
৩৫ এবং এখন আমি পিতার কাছে যাচ্ছি, কারণ তোমাদের জন্য আমার পিতার কাছে যাওয়াই যথাযথ।
৩৬ এবং এটা ঘটলো যে যীশু যখন এই কথাগুলো শেষ করলেন, তখন তিনি তাঁর শিষ্যদের যাদের তিনি নিযুক্ত করেছিলেন, এক এক করে তাঁর হাত দিয়ে স্পর্শ করলেন, এমনকি যতক্ষণ না তিনি তাদের সকলকে স্পর্শ করলেন, এবং তিনি তাদের স্পর্শ করার সাথে সাথে তাদের সাথে কথা বললেন।
৩৭ তিনি যা বলেছিলেন তা জনগণ শোনেনি, তাই তারা সাক্ষ্য বহন করতে পারেনি; কিন্তু শিষ্যরা সাক্ষ্য বহন করেছিলেন যে তিনি তাদের পবিত্র আত্মা দেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছেন। এবং আমি তোমাদেরকে দেখাবো যে এই নথি সত্য।
৩৮ এবং এটা ঘটলো যে যীশু যখন তাদের সকলকে স্পর্শ করলেন, তখন একটা মেঘ এসে জনতার ভিড়টাকে ঢেকে দিলো যে তারা যীশুকে আর দেখতে পেলো না।
৩৯ এবং যখন তারা আছন্ন ছিলো তখন তিনি তাদের কাছ থেকে চলে গেলেন, এবং স্বর্গে আরোহণ করলেন। এবং শিষ্যরা দেখেছিলেন এবং সাক্ষ্য বহন করেছিলেন যে তিনি আবার স্বর্গে আরোহণ করলেন।