ধর্মশাস্ত্র
৩ নেফী ১৯


অধ্যায় ১৯

বারোজন শিষ্য লোকদের পরিচর্যা করেন এবং পবিত্র আত্মার জন্য প্রার্থনা করেন—শিষ্যরা বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেন এবং পবিত্র আত্মা এবং স্বর্গদূতদের পরিচর্যা গ্রহণ করেন—যীশু এমন শব্দ ব্যবহার করে প্রার্থনা করেন যা লেখা যায় না—তিনি এই নেফীয়দের অত্যন্ত মহান বিশ্বাসের সাক্ষ্য দেন। প্রায় ৩৪ খ্রীষ্টাব্দে

এবং এখন এটা ঘটলো যে যীশু যখন স্বর্গে আরোহণ করলেন, তখন জনতা ফিরে গেলো, এবং প্রত্যেকটা পুরুষ তার স্ত্রী এবং তার সন্তানদের নিয়ে নিজেদের বাড়িতে ফিরে গেলো।

এবং অন্ধকার হওয়ার পূর্বেই, লোকেদের মধ্যে শীঘ্রই শোরগোল উঠলো যে, জনতা যীশুকে দেখেছিলো, এবং তিনি তাদের পরিচর্যা করেছিলেন, এবং তিনি আগামীকাল জনতার কাছে নিজেকে আবার প্রকাশ করবেন।

হ্যাঁ, এবং এমনকি সমস্ত রাত ধরে যীশুর বিষয়ে লোকেদের মধ্যে শোরগোল উঠেছিলো; এবং তারা লোকেদের কাছে এতটাই বেশি প্রকাশ করেছিলো যে সেখানে অনেকেই ছিলো, হ্যাঁ, অনেক সংখ্যক জনতা ছিলো, যারা সেই সমস্ত রাত্রি অতিশয় পরিশ্রম করেছিলো, যাতে যীশু যে স্থানে নিজেকে জনতার কাছে প্রকাশ করবেন সেই স্থানে আগামীকাল তারা উপস্থিত হতে পারে।

এবং এটা ঘটলো যে পরের দিন, যখন জনতা একত্রিত হয়েছিলো, দেখো, নেফী ও তাঁর ভাই যাকে তিনি মৃত থেকে জীবিত করেছিলেন, যাঁর নাম তীমথি ছিলো, এবং তাঁর পুত্রও, যাঁর নাম যোনা, এবং ম্যাথোনাইও, এবং ম্যাথোনাইহা, তাঁর ভাই, এবং কিউমেন, এবং কিউমেননহী, এবং যিরমিয়, এবং শেমনন, এবং যোনা, এবং সিদিকিয়, এবং যিশাইয়—এখন এই ছিলো সেই শিষ্যদের নাম যাঁদের যীশু নির্বাচন করেছিলেন—এবং এটা ঘটলো যে তাঁরা এগিয়ে গেলেন এবং জনতার মাঝখানে দাঁড়ালেন।

এবং দেখো, সেই জনতা এতো বেশি ছিলো যে তাঁরা তাদের বারোটা দলে বিভক্ত করার ব্যবস্থা করেছিলেন।

এবং সেই বারোজন জনতাদের শিক্ষা দিয়েছিলেন; এবং দেখো, তাঁরা এটা ঘটালো যাতে লোকেরা মাটিতে হাঁটু গেড়ে বসে, এবং যীশুর নামে পিতার কাছে প্রার্থনা করে।

এবং সেই শিষ্যরাও যীশুর নামে পিতার কাছে প্রার্থনা করেছিলেন। এবং এটা ঘটলো যে তাঁরা দাঁড়ালেন এবং জনতাদের পরিচর্যা করলেন।

এবং যীশু যে কথাগুলো বলেছিলেন সেই একই কথাগুলো যখন তাঁরা পরিচর্যা করলেন—যীশুর উক্ত কথাগুলোর থেকে কিছু না বদলে—দেখো, তখন তাঁরা আবার হাঁটু গেড়ে যীশুর নামে পিতার কাছে প্রার্থনা করলেন।

এবং তাঁরা যা সবচেয়ে বেশি কামনা করতেন সেটার জন্য তাঁরা প্রার্থনা করেছিলেন; এবং তাঁরা কামনা করেছিলেন যে পবিত্র আত্মা তাঁদেরকে দেওয়া হোক।

১০ এবং এইভাবে প্রার্থনা করার পর তাঁরা জলাশয়ের কিনারায় গিয়েছিলেন, এবং জনতা তাঁদের অনুসরণ করেছিলো।

১১ এবং এটা ঘটলো যে নেফী জলের মধ্যে গিয়েছিলেন এবং বাপ্তিস্ম নিয়েছিলেন।

১২ এবং তিনি জল থেকে উঠে এসে বাপ্তিস্ম দিতে লাগলেন। এবং যীশু যাদের মনোনীত করেছিলেন তাঁদের সকলকে তিনি বাপ্তিস্ম দিলেন।

১৩ এবং এটা ঘটলো যে যখন তাঁরা সকলেই বাপ্তিস্ম গ্রহণ করলেন এবং জল থেকে উঠে এলেন, তখন পবিত্র আত্মা তাদের উপর নেমে এলেন, এবং তাঁরা পবিত্র আত্মা ও আগুনে পূর্ণ হলেন।

১৪ এবং দেখো, তাঁরা যেনো আগুনের দ্বারা প্রায় পরিবেষ্টিত হয়ে রইলো; এবং তা স্বর্গ থেকে নেমে এলো, এবং লোকেরা তা প্রত্যক্ষ করলো, এবং তা লিপিবদ্ধ করলো; এবং স্বর্গদূতেরা স্বর্গ থেকে নেমে এসে তাঁদের পরিচর্যা করলেন।

১৫ এবং এটা ঘটলো যে স্বর্গদূতেরা যখন শিষ্যদের পরিচর্যা করছিলেন, দেখো, যীশু আসলেন ও তাদের মধ্যে দাঁড়ালেন এবং পরিচর্যা করলেন।

১৬ এবং এটা ঘটলো যে তিনি জনতার সাথে কথা বললেন এবং তাদের আদেশ দিলেন যাতে তারা আবার মাটিতে নতজানু হয়, এবং তাঁর শিষ্যদেরও মাটিতে নতজানু হতে বললেন।

১৭ এবং এটা ঘটলো যে যখন তারা সবাই মাটিতে নতজানু হলো, তিনি তাঁর শিষ্যদের আদেশ দিলেন যাতে তাঁরা প্রার্থনা করেন।

১৮ এবং দেখো, তাঁরা প্রার্থনা করতে লাগলেন; এবং তাঁরা যীশুর কাছে প্রার্থনা করলেন, তাঁকে তাঁদের প্রভু ও তাঁদের ঈশ্বর বলে ডাকলেন।

১৯ এবং এটা ঘটলো যে যীশু তাঁদের মধ্যে থেকে সরে গেলেন, এবং কিছুটা দূরে গিয়ে নিজেকে মাটিতে নতজানু করলেন, এবং তিনি বললেন:

২০ পিতা, আমি তোমাকে ধন্যবাদ জানাই যে তুমি তাদেরকে পবিত্র আত্মা প্রদান করেছো যাদের আমি বেছে নিয়েছি; এবং এটা দিয়েছো আমার প্রতি তাঁদের বিশ্বাসের জন্য যে, আমি তাঁদের জগৎথেকে বেছে নিয়েছি।

২১ পিতা, আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করি যে যারা তাঁদের কথায় বিশ্বাস করবে, তাদেরও তুমি পবিত্র আত্মা দান করবে।

২২ পিতা, তুমি তাঁদের পবিত্র আত্মা দিয়েছো কারণ তাঁরা আমার উপর বিশ্বাস রাখে; এবং তুমি দেখছো যে তাঁরা আমার উপর বিশ্বাস রাখে কারণ তুমি তাঁদের কথা শুনেছো, এবং তাঁরা আমার কাছে প্রার্থনা করেছে; এবং তাঁরা আমার কাছে প্রার্থনা করে কারণ আমি তাঁদের সাথে আছি।

২৩ এবং এখন পিতা, আমি তোমার কাছে তাঁদের জন্য প্রার্থনা করছি, এবং তাদের জন্যও যারা তাদের কথায় বিশ্বাস করবে, যাতে তারা আমার উপর বিশ্বাস স্থাপন করে, যাতে আমি তাদের মধ্যে থাকতে পারি, যেমন তুমি, পিতা, আমার মধ্যে আছো, যাতে আমরা এক হতে পারি।

২৪ এবং এটা ঘটলো যে যীশু পিতার কাছে এইভাবে প্রার্থনা করার পর, তিনি তাঁর শিষ্যদের কাছে এলেন, এবং দেখো, তাঁরা তখনও অবিরত, তাঁর কাছে নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রার্থনা করছিলেন; এবং তাঁরা বেশি কথা বলেননি, কারণ তাঁদের যা প্রার্থনা করা উচিত তা তাঁদের দেওয়া হয়েছিলো, এবং তাঁরা আকাঙ্ক্ষায় পূর্ণ হয়েছিলেন।

২৫ এবং এটা ঘটলো যে যীশু তাঁদের আশীর্বাদ করলেন, যখন তাঁরা তাঁর কাছে প্রার্থনা করছিলেন; এবং তিনি তাঁদের প্রতি অনুগ্রহের দৃষ্টিতে তাকালেন, এবং তাঁর মুখমণ্ডলের আলো তাঁদের উপর প্রতিফলিত হলো, এবং দেখো, তাঁরা এমন শুভ্র হয়ে গেলো যেমন যীশুর মুখমণ্ডল ও তাঁর বস্ত্র ছিলো; এবং দেখো, এই শুভ্রতা সমস্ত শুভ্রতাকে অতিক্রম করেছিলো, হ্যাঁ, এমনকি তাঁদের শুভ্রতা এতটাই ছিলো যে পৃথিবীতে কিছুই এতটা শুভ্র হতে পারে না।

২৬ এবং যীশু তাঁদের বললেন: প্রার্থনা চালিয়ে যাও; এবং তাঁরা প্রার্থনা করা বন্ধ করলেন না।

২৭ এবং তিনি আবার তাঁদের থেকে সরে গেলেন, কিছুটা দূরে গিয়ে নিজেকে মাটিতে নতজানু করলেন; এবং তিনি আবার পিতার কাছে প্রার্থনা করলেন, এই বলে:

২৮ পিতা, আমি তোমাকে ধন্যবাদ জানাই যে যাদের আমি বেছে নিয়েছি তুমি তাদের বিশুদ্ধ করেছো, কারণ তারা বিশ্বাসী; এবং আমি তাদের জন্য প্রার্থনা করি, এবং তাদের জন্যও যারা তাঁদের কথায় বিশ্বাস করবে, যাতে তারা আমার মধ্যে বিশ্বাসের মাধ্যমে বিশুদ্ধ হতে পারে, যেমন তারা আমার মধ্যে বিশুদ্ধ হয়েছে।

২৯ পিতা, আমি জগতের জন্য প্রার্থনা করি না, বরং তাদের জন্য যাদের তুমি আমাকে জগত থেকে দিয়েছো, কারণ তারা বিশ্বাসী, যাতে তারা আমার মধ্যে বিশুদ্ধ হতে পারে, যাতে আমি তাদের মধ্যে থাকতে পারি, যেমন তুমি, পিতা, আমার মধ্যে আছো, যাতে আমরা এক হতে পারি, এবং আমি তাদের মধ্যে মহিমান্বিত হতে পারি।

৩০ এবং যীশু এই কথা বলার পর, তিনি আবার তাঁর শিষ্যদের কাছে এলেন; এবং দেখো, তাঁরা অটলভাবে, নিরবচ্ছিন্নভাবে, তাঁর কাছে প্রার্থনা করছিলেন; এবং তিনি আবার তাঁদের প্রতি অনুগ্রহের দৃষ্টিতে তাকালেন; এবং দেখো, তাঁরা এমন শুভ্র হয়ে উঠলো, এমনকি যীশুর মতো।

৩১ এবং এটা ঘটলো যে তিনি আবার কিছুটা দূরে গেলেন এবং পিতার কাছে প্রার্থনা করলেন;

৩২ এবং জিহ্বা সেই কথাগুলো উচ্চারণ করতে পারে না যা তিনি প্রার্থনা করলেন, মানুষও সেই কথাগুলো লিখতে সক্ষম নয় যা তিনি প্রার্থনা করলেন।

৩৩ এবং জনতা শুনলো এবং সাক্ষ্য দিলো; এবং তাদের হৃদয় উন্মুক্ত হলো, এবং তারা তাদের হৃদয়ে তাঁর প্রার্থনার কথা বুঝতে পারলো।

৩৪ তবুও, এতো মহান ও বিস্ময়কর ছিলো তাঁর প্রার্থনার কথা যে তা লেখা যায় না, এবং মানুষ তা উচ্চারণও করতে পারে না।

৩৫ এবং এটা ঘটলো যে যখন যীশু প্রার্থনা শেষ করলেন, তিনি আবার তাঁর শিষ্যদের কাছে এলেন এবং তাঁদের বললেন: এতো মহান বিশ্বাস আমি কখনও সব যিহুদীদের মধ্যে দেখিনি; তাই আমি তাদের এতো মহান আশ্চর্য্য কাজগুলো দেখাতে পারিনি, তাদের অবিশ্বাসের কারণে।

৩৬ সত্যিই আমি তোমাদের বলছি, তাদের মধ্যে কেউই এমন মহান বিষয় দেখেনি যা তোমরা দেখেছো; এবং তারা এমন মহান বিষয় শোনেওনি যা তোমরা শুনেছো।