অধ্যায় ১৪
যীশু আদেশ দেন: বিচার কোরো না; ঈশ্বরের কাছে চাও; মিথ্যা ভাববাদীদের থেকে সাবধান হও—যারা পিতার ইচ্ছা পালন করে তিনি তাদের পরিত্রাণের প্রতিশ্রুতি দেন—তুলনা করোমথি ৭। প্রায় ৩৪ খ্রীষ্টাব্দে।
১ এবং এখন এটা ঘটলো যে, যীশু যখন এই কথাগুলো বলছিলেন তখন তিনি জনতার দিকে আবার তাকালেন, এবং তাদের কাছে আবার মুখ খুললেন, বললেন: সত্যি, সত্যি, আমি তোমাদের বলছি, বিচার কোরো না, যাতে তোমাদের বিচার না হয়।
২ কারণ যেভাবে তোমরা বিচার করবে, তোমরাও সেরূপে বিচারিত হবে; এবং যে পরিমাণে পরিমাপ করো, সেই পরিমাণে তোমাদের আবার পরিমাপ করা হবে।
৩ আর তোমার ভাইয়ের চোখে যে ধূলিকণা আছে, তা তুমি কেনো দেখছো, কিন্তু তোমার নিজের চোখে যে কড়িকাঠ আছে, তা বিবেচনা করছো না?
৪ তখন তুমি তোমার ভাইকে কিভাবে বলবে: তোমার চোখ থেকে আমাকে ধূলিকণাটা বের করতে দাও—এবং দেখো, তোমার নিজের চোখে একটা কড়িকাঠ আছে?
৫ হে ভণ্ড, প্রথমে তোমার নিজের চোখ থেকে কড়িকাঠ বের করো; অতঃপরে তুমি তোমার ভাইয়ের চোখ থেকে ধূলিকণা বের করার জন্য স্পষ্ট দেখতে পাবে।
৬ যা পবিত্র তা কুকুরদের দিও না, শূকরের সামনে তোমাদের মুক্তোও নিক্ষেপ করো না, পাছে তারা তাদের পায়ের তলায় পদদলিত করে, আবার ফিরে তোমাকে ছিঁড়ে ফেলে।
৭ যাচ্ঞা করো, তা তোমাদেরকে দেওয়া হবে; অন্বেষণ করো, এবং তোমরা পাবে; দরজায় আঘাত করো, এবং তা তোমাদের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
৮ কেননা প্রত্যেকে যে যাচ্ঞা করে, পায়; এবং সে যে অন্বেষণ করে, খুঁজে পায়; এবং যে দরজায় আঘাত করে, তার জন্য তা খুলে দেওয়া হবে।
৯ অথবা তোমাদের মধ্যে এমন কোনো লোক আছে, যে তার ছেলে রুটি চাইলে তাকে পাথর দেয়?
১০ অথবা সে যদি মাছ চায়, সে কি তাকে একটা সাপ দেবে?
১১ অতএব তোমরা যদি, মন্দ হয়েও, তোমাদের সন্তানদেরকে উত্তম পুরস্কার দান করতে জানো, তবে তোমাদের স্বর্গস্থ পিতা, যারা তাঁর কাছে যাচ্ঞা করে, তাদেরকে কতোটাই না উত্তম জিনিস দেবেন অধিকভাবে?
১২ অতএব, তোমরা যেটা চাও যে লোকেরা তোমাদের প্রতি করুক, তোমরা তাদের প্রতি সেটাই করো, কেননা এটাই ভাববাদীগণের বিধানের শিক্ষার সারমর্ম।
১৩ তোমরা সঙ্কীর্ণ দ্বার দিয়ে প্রবেশ করো; কেননা ধ্বংসের দিকে যাবার দ্বারটা প্রশস্ত, এবং পথটা বিস্তৃত এবং সেখানে অনেকেই প্রবেশ করে;
১৪ কারণ জীবনের দিকে যাবার জন্য সেই দ্বার হলো সঙ্কীর্ণ, এবং দুর্গম হলো সেই পথ এবং খুব কম লোকই তা খুঁজে পায়।
১৫ মিথ্যা ভাববাদীদের থেকে সাবধান হও, যারা মেষের পোশাক পরে তোমাদের কাছে আসে, কিন্তু ভিতরে তারা হিংস্র নেকড়ে।
১৬ তোমরা তাদের ফল দ্বারাই তাদের চিনতে পারবে। লোকেরা কি কাঁটাঝোপ থেকে আঙ্গুর সংগ্রহ করে, না কাঁটা গাছ থেকে ডুমুর সংগ্রহ করে?
১৭ তেমনই প্রত্যেক ভালো গাছ ভালো ফল উৎপন্ন করে; কিন্তু মন্দ গাছ মন্দ ফল উৎপন্ন করে।
১৮ একটা ভালো গাছ মন্দ ফল উৎপন্ন করতে পারে না, তেমনই একটা মন্দ গাছ ভালো ফল উৎপন্ন করতে পারে না।
১৯ যে গাছে ভালো ফল ধরে না, তা কেটে আগুনে নিক্ষেপ করা হয়।
২০ অতএব, তোমরা তাদের ফল দ্বারাই তাদের চিনতে পারবে।
২১ যারা আমাকে হে প্রভু, হে প্রভু বলে, তারা সকলেই স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করতে পারবে না; বরং যে আমার স্বর্গস্থ পিতার ইচ্ছা পালন করে।
২২ সেই দিন অনেকেই আমাকে বলবে: হে প্রভু, হে প্রভু, আমরা কি আপনার নামে ভবিষ্যদ্বাণী করিনি, আপনার নামে শয়তানদের বিতাড়িত করিনি, এবং আপনার নামে অনেক আশ্চর্য কাজ করিনি?
২৩ অতঃপর আমি তাদেরকে স্পষ্টভাবে বলবো: আমি কখনই তোমাদেরকে চিনতাম না; হে অন্যায় কর্মকারীরা, আমার কাছ থেকে দূর হও।
২৪ অতএব, যে ব্যক্তি আমার এই কথাগুলো শোনে এবং সেগুলো পালন করে, আমি তাকে একজন জ্ঞানী ব্যক্তির সাথে তুলনা করবো, যে একটা পাথরের উপর তার ঘর তৈরি করেছিলো—
২৫ এবং বৃষ্টি নামলো, এবং বন্যা এলো, এবং বাতাস বইলো, এবং সেই গৃহের উপর আঘাত করলো; এবং তা ভেঙে পড়েনি, কারণ এটা একটা পাথরের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো।
২৬ আর যে আমার এই কথাগুলো শোনে এবং সেগুলো পালন করে না, তাকে একজন মূর্খ ব্যক্তির সঙ্গে তুলনা করা হবে, যে বালির উপর তার ঘর নির্মাণ করেছিলো—
২৭ এবং বৃষ্টি নামলো, এবং বন্যা এলো, এবং বাতাস বইলো, এবং সেই গৃহের উপর আঘাত করলো; এবং এটা ভেঙে পড়লো, এবং এর পতন মহান ছিলো।