ধর্মশাস্ত্র
মশিয়াহ ২৪


অধ্যায় ২৪

আমূলন আলমা এবং তাঁর লোকেদের উপর অত্যাচার করে—তারা প্রার্থনা করলে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে—প্রভু তাদের বোঝা হালকা করে দেন—তিনি তাদের দাসত্ব থেকে উদ্ধার করেন, এবং তারা সেরহমলায় ফিরে আসে। প্রায় ১৪৫–১২০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে

এবং এটা ঘটলো যে আমূলন লামানীয় রাজার দৃষ্টিতে অনুগ্রহ পেয়েছিলো; তাই, লামানীয়দের রাজা তাকে এবং তার ভাইদেরকে অনুমতি দিয়েছিলো যে তারা তার লোকেদের জন্য শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হবে, হ্যাঁ, এমনকি সেই লোকেদের জন্য যারা শেমলোন ভূমিতে, শীলোম ভূমিতে এবং আমূলনের ভূমিতে ছিলো।

কারণ লামানীয়রা এই সমস্ত ভূমি দখল করেছিলো; তাই, লামানীয়দের রাজা এই সমস্ত ভূমির উপর রাজাদের নিযুক্ত করেছিলো।

এবং এখন লামানীয়দের রাজার নাম ছিলো লামান, তার পিতার নাম অনুসারে নামকরণ হয়েছিলো; তাই তাকে রাজা লামান বলা হতো। এবং সে অসংখ্য লোকের রাজা ছিলো।

এবং সে আমূলনের ভাইদের মধ্য থেকে প্রত্যেকটা ভূমিতে শিক্ষক নিযুক্ত করেছিলো যা তার লোকদের দখলে ছিলো; এবং এইভাবে নেফীর ভাষা লামানীয়দের সমস্ত লোকেদের মধ্যে শেখানো শুরু হয়েছিলো।

এবং তারা একে অপরের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ছিলো; তবুও তারা ঈশ্বরকে জানতো না; আমূলনের ভাইয়েরা প্রভু ঈশ্বরের বিষয়ে তাদের কিছু শেখায়নি, বা মোশির আইনের বিষয়েও না; তারা তাদেরকে অবীনাদির বাক্যগুলোও শেখায়নি;

কিন্তু তারা তাদের শিখিয়েছিলো যে তাদের নথি রাখা উচিত, এবং যাতে তারা একে অপরকে লিখতে পারে।

এবং এইভাবে লামানীয়রা ধনসম্পদে বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছিলো, এবং একে অপরের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে শুরু করেছিলো ও প্রচুর সমৃদ্ধি লাভ করেছিলো, এবং জাগতিক প্রজ্ঞায়, ধূর্ত এবং জ্ঞানী ব্যক্তি হতে শুরু করেছিলো, হ্যাঁ, খুব ধূর্ত মানুষ, যারা তাদের নিজেদের ভাইদের ছাড়া, সকলের সাথে মন্দতা এবং লুণ্ঠন করে আনন্দ উপভোগ করেছিলো।

এবং এখন এটা ঘটলো যে আমূলন আলমা ও তাঁর ভাইদের উপর কর্তৃত্ব প্রয়োগ করতে শুরু করে এবং তাঁকে নির্যাতন করতে শুরু করে, এবং সে তার সন্তানদেরকে নির্দেশ দিয়েছিলো তাদের সন্তানদের নির্যাতন করার জন্য।

কারণ আমূলন আলমাকে চিনতো, তিনি রাজার একজন যাজক ছিলেন, এবং তিনিই অবীনাদির বাক্যে বিশ্বাস করেছিলেন ও রাজার সামনে থেকে বিতাড়িত হয়েছিলেন, এবং সেই কারণে সে তাঁর উপর রাগান্বিত ছিলো; যেহেতু সে রাজা লামানের অধীনে ছিলো, তথাপি সে তাদের উপর কর্তৃত্ব প্রয়োগ করেছিলো, এবং তাদের উপর কাজের দায়িত্ব দিয়েছিলো, এবং তাদের উপর কার্য-কর্তা নিয়োগ করেছিলো।

১০ এবং এটা ঘটলো যে তাদের কষ্ট এতটাই তীব্র ছিলো যে তারা ঈশ্বরের কাছে প্রবলভাবে মিনতি করা শুরু করেছিলো।

১১ এবং আমূলন তাদের আদেশ দিয়েছিলো যে তাদের মিনতি করা থামাতে হবে; এবং সে তাদের উপর নজর রাখার জন্য প্রহরী নিযুক্ত করেছিলো, যাতে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতে কাউকে পাওয়া গেলে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

১২ এবং আলমা এবং তাঁর লোকেরা উচ্চস্বরে তাদের প্রভু ঈশ্বরেকে ডাকেনি, কিন্তু তারা তাঁর কাছে তাদের হৃদয় উন্মুক্ত করেছিলো; এবং তিনি তাদের হৃদয়ের অনুভূতি জানতেন।

১৩ এবং এটা ঘটলো যে তাদের কষ্টের মধ্যে প্রভুর কণ্ঠস্বর তাদের কাছে এসে, বললেন: তোমরা মাথা উঁচু করো এবং আনন্দদায়ক সান্ত্বনা গ্রহণ করো, কারণ তোমরা আমার সাথে যে চুক্তি করেছো তা আমি জানি; আমি আমার লোকদের সঙ্গে চুক্তি করবো এবং তাদের দাসত্ব থেকে উদ্ধার করবো।

১৪ এবং তোমাদের কাঁধের উপর চাপানো বোঝাগুলোও আমি হালকা করে দেবো, এমন ভাবে যে তোমরা দাসত্বের মধ্যে থাকা অবস্থায়ও, তোমাদের পিঠে সেগুলো অনুভব করতে পারবে না; এবং আমি এটা করবো যাতে পরে তোমরা আমার সাক্ষী হয়ে দাঁড়াতে পারো, এবং তোমরা নিশ্চিতভাবে জানতে পারো যে, আমি, প্রভু ঈশ্বর, আমার লোকদের দুঃখ-কষ্টের সময়ে তাদের সাহায্য করতে আসি।

১৫ এবং এখন এটা ঘটলো যে আলমা ও তাঁর ভাইদের উপর যে বোঝা ছিলো তা হালকা করা হয়েছিলো; হ্যাঁ, প্রভু তাদের শক্তিশালী করেছিলেন যাতে তারা সহজেই তাদের বোঝা বহন করতে পারে, এবং তারা আনন্দের সাথে এবং ধৈর্যের সাথে প্রভুর সমস্ত ইচ্ছার কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলো।

১৬ এবং এটা ঘটলো যে তাদের বিশ্বাস এবং ধৈর্য এতটাই মহান ছিলো যে প্রভুর কণ্ঠস্বর আবার তাদের কাছে এসে, বললেন: আনন্দদায়ক সান্ত্বনা গ্রহণ করো, কারণ আগামীকাল আমি তোমাদের দাসত্ব থেকে উদ্ধার করবো।

১৭ এবং তিনি আলমাকে বললেন: তুমি এই লোকদের আগে চলবে, এবং আমি তোমার সাথে যাবো এবং এই লোকদের দাসত্ব থেকে উদ্ধার করবো।

১৮ এখন এটা ঘটলো যে আলমা ও তাঁর লোকেরা রাতের বেলা তাদের মেষপাল, ও তাদের শস্য একত্র করেছিলো; হ্যাঁ, এমনকি সারা রাত তারা তাদের মেষপাল একত্রিত করেছিলো।

১৯ এবং সকালে প্রভু লামানীয়দেরকে গভীর নিদ্রায় নিদ্রিত করেছিলেন, হ্যাঁ, এবং তাদের সমস্ত কার্য-কর্তারা গভীর নিদ্রায় ছিলো।

২০ এবং আলমা ও তাঁর লোকেরা প্রান্তরে চলে গেলো; এবং সারাদিন ভ্রমণ করার পর তারা একটা উপত্যকায় তাদের তাঁবু স্থাপন করেছিলো এবং তারা সেই উপত্যকার নাম আলমা দিলো, কারণ তিনি প্রান্তরে তাদের পথ দেখিয়েছিলেন।

২১ হ্যাঁ, এবং আলমা উপত্যকায় তারা ঈশ্বরের কাছে তাদের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছিলো কারণ তিনি তাদের প্রতি করুণাময় ছিলেন, এবং তাদের বোঝা হালকা করেছিলেন, এবং তাদের দাসত্ব থেকে উদ্ধার করেছিলেন; কারণ তারা দাসত্বে ছিলো, এবং তাদের ঈশ্বর প্রভু ছাড়া তাদের কেউই উদ্ধার করতে পারতো না।

২২ এবং তারা ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানালো, হ্যাঁ, তাদের সকল পুরুষ এবং মহিলা এবং তাদের শিশুরা যারা কথা বলতে পারতো তারা উচ্চস্বরে তাদের ঈশ্বরের প্রশংসা করেছিলো।

২৩ এবং এখন প্রভু আলমাকে বললেন: তুমি তাড়াতাড়ি করো এবং তুমি ও এই লোকদের এই ভূমি থেকে বের করে নিয়ে যাও, কারণ লামানীয়রা জেগে উঠেছে এবং তোমাদেরকে তাড়া করবে; তাই তোমরা এই ভূমি থেকে বের হয়ে যাও, এবং আমি এই উপত্যকায় লামানীয়দের থামাবো যাতে তারা আর এই লোকদের পিছনে না আসে।

২৪ এবং এটা ঘটলো যে তারা উপত্যকা থেকে বেরিয়ে গেলো, এবং প্রান্তরে যাত্রা করলো।

২৫ এবং বারো দিন প্রান্তরে থাকার পর তারা সেরহমলা ভূমিতে পৌঁছালো; রাজা মশিয়াহও তাদের আনন্দের সাথে গ্রহণ করেছিলেন।