ধর্মশাস্ত্র
হেলামান ২


অধ্যায় ২

হেলামানের পুত্র, হেলামান, প্রধান বিচারক হন—কিসকুমেনের ডাকাতদলকে গাদিয়ানটন পরিচালনা করে—হেলামানের দাস কিসকুমেনকে হত্যা করে, এবং গাদিয়ানটনের ডাকাতদল প্রান্তরে পালিয়ে যায়। প্রায় ৫০–৪৯ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে

এবং এটা ঘটলো বিচারকদের রাজত্বকালের বিয়াল্লিশতম বছরে, নেফীয় এবং লামানীয়দের মধ্যে মরোনীহা আবার শান্তি স্থাপন করার পরে, দেখো সেখানে বিচার-আসন পূরণ করার কেউ ছিলো না; তাই কে বিচার-আসন পূরণ করবে সেই বিষয় নিয়ে সেখানে লোকদের মধ্যে আবার একটা বিবাদ শুরু হয়েছিলো।

এবং এটা ঘটলো যে হেলামান, যিনি হেলামানের একজন পুত্র ছিলেন, জনগণের ভোট দ্বারা বিচার-আসন পূরণ করতে নিযুক্ত হয়েছিলেন।

কিন্তু দেখো, কিসকুমেন, যে পাহোরানকে হত্যা করেছিলো, সে হেলামানকেও হত্যা করতে অপেক্ষা করেছিলো; এবং সে তার ডাকাতদল দ্বারা সমর্থিত হয়েছিলো, যারা একটা চুক্তিতে প্রবেশ করেছিলো যে কেউ তার মন্দতা জানতে পারবে না।

কারণ সেখানে গাদিয়ানটন নামে একজন ছিলো, যে হত্যার গোপন কাজ এবং ডাকাতি চালাতে বিভিন্ন কথা বলায় এবং কৌশলেও দক্ষ ছিলো; তাই সে কিসকুমেনের ডাকাতদলের দলনেতা হয়েছিলো।

তাই সে তাদেরকে এবং কিশকুমেনকেও তোষামোদ করেছিলো, যে যদি তারা তাকে সেই বিচার-আসনে নিযুক্ত করে, তাহলে যারা তার ডাকাতদলের অন্তর্গত সে তাদেরকে জনগণের মধ্যে ক্ষমতা ও কর্তৃত্বে নিযুক্ত হওয়ার অনুমতি দেবে; তাই কিশকুমেন হেলামানকে ধ্বংস করতে চেয়েছিলো।

এবং এটা ঘটলো যখন সে হেলামানকে ধ্বংস করতে বিচার-আসনের দিকে গিয়েছিলো, দেখো হেলামানের একজন দাস, রাতে বাইরে থাকাতে, এবং ছদ্মবেশের মাধ্যমে, সেই পরিকল্পনার একটা সংবাদ পেয়েছিলো যা এই ডাকাতদলের দ্বারা পরিকল্পনা করা হয়েছিলো—

এবং এটা ঘটলো যে সে কিসকুমেনের সাথে সাক্ষাৎ করলো, এবং সে তাকে একটা ইঙ্গিত দিলো; অতএব কিসকুমেন তার উদ্দেশ্য তাকে জানালো, এই ইচ্ছায় যে সে তাকে বিচার-আসনের দিকে নিয়ে যাবে যাতে সে হেলামানকে হত্যা করতে পারে।

এবং যখন হেলামানের দাস কিসকুমেনের হৃদয়ের সমস্ত উদ্দেশ্য জানলো, এবং যে সেটা তার হত্যার উদ্দেশ্য ছিলো, এবং যারা তার ডাকাতদলের অন্তর্গত ছিলো তাদেরও সকলের উদ্দেশ্য ছিলো হত্যা করার, ও ডাকাতি করার, ও ক্ষমতা লাভ করার (এবং এটা ছিলো তাদের গোপন পরিকল্পনা, ও তাদের ষড়যন্ত্র) তখন হেলামানের দাস কিসকুমেনকে বললো: চলো আমরা বিচার-আসনের দিকে যাই।

এখন এটা কিসকুমেনকে অত্যন্তভাবে আনন্দিত করেছিলো, কারণ সে ধরে নিয়েছিলো যে সে তার উদ্দেশ্য সম্পন্ন করবে; কিন্তু দেখো, যখন তারা বিচার-আসনের দিকে যাচ্ছিলো, হেলামানের দাস কিসকুমেনকে হৃদপিণ্ড পর্যন্ত ছুরিকাঘাত করেছিলো, ফলে সে কোনো আর্তনাদ ছাড়াই পরে মারা গেলো। এবং সে দৌড়ালো এবং হেলামানকে সকল কিছু বললো যা সে দেখেছিলো, এবং শুনেছিলো, এবং করেছিলো।

১০ এবং এটা ঘটলো যে হেলামান এই ডাকাতের দল এবং গুপ্ত হত্যাকারীদেরকে ধরতে লোক পাঠালেন, যাতে তাদেরকে আইন অনুসারে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যায়।

১১ কিন্ত দেখো, যখন গাদিয়ানটন দেখলো যে কিসকুমেন ফিরে আসেনি সে ভীত হয়েছিলো যে পাছে সে ধ্বংস হয়ে যাবে; তাই সে আদেশ দিলো যে তার ডাকাতদলকে তাকে অনুসরণ করতে হবে। এবং তারা তাদের ডাকাতদলকে নিয়ে একটা গোপন পথে পালিয়ে ভূমির বাইরে প্রান্তরে চলে গিয়েছিলো; এবং এইজন্য যখন হেলামান তাদের ধরার জন্য লোক পাঠিয়েছিলেন তাদেরকে কোথাও খুঁজে পাওয়া গেলো না।

১২ এবং এরপরে এই গাদিয়ানটন সম্পর্কে আরও কিছু বলা হবে। এবং এইভাবে নেফীর লোকেদের উপর বিচারকদের রাজত্বকালের বিয়াল্লিশতম বছর সমাপ্ত হয়েছিলো।

১৩ এবং দেখো, এই পুস্তকের শেষে তোমরা দেখতে পাবে যে এই গাদিয়ানটনই পতন ঘটিয়েছিলো, হ্যাঁ, প্রায় সম্পূর্ণ নেফীর লোকেদের ধংসের কারণে পরিণত হয়েছিলো।

১৪ দেখো আমি হেলামানের পুস্তকের শেষের কথা বলছি না, বরং আমি নেফীর পুস্তকের শেষ অংশের কথা বলছি, যেখান থেকে আমি সব লিখিত বিবরণ নিয়েছি যা আমি লিখেছি।